শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:২২ পূর্বাহ্ন

আলিমন নেছা মনি’র পদাবলি

আলিমন নেছা মনি’র পদাবলি

চিতাকাঠের মজলিশ


তরল স্ফুটনাংকে ফুটছে – হোম কোয়ারেন্টিনের বন্দি লেবুর জল।
পাকস্থলির গোলা বারুদে
ক্ষয়ে যাচ্ছে শ্রমিকের ঘাম।
তেষ্টা আর পিপাসায় শুকিয়ে গ্যাছে প্রাণ।
আর কতদূর!
আর কতপথ এগোলে মিলবে মুক্তি
ম্যাথমেটিক্সের শূন্য সংখ্যার কম্পাসে ঘোরে বৃত্ত-
আয়ুষ্কাল।
মেটাবলিজমের ধারণ ক্ষমতায় বিভাজিত হয় শুক্রাণু
বহুরূপী হয় লেসবিয়ানের চোখ
থেলাসেমিয়ায় আক্রান্ত – নগ্ন ক্ষুধার পেট
গিলে খায় দ্বিমুখী সনদের ডিগ্রী
রাষ্ট্র নামক চিতাকাঠের মজলিশে পোড়ে ভিক্ষার দান।


সন্ধ্যার মুখোমুখি

ভেবে দেখো, বার বার! কি বলেছিলে তুমি?
পৃথিবীর নিরব মৌণতার ক্ষণিক মোহে,
আবিষ্ট দিগন্তের ওপাড়ে দাড়িয়ে হতে চেয়েছিলে
এক প্রগাঢ় সন্ধ্যার রাজপুত্র।
আর আমাকে দিতে চেয়েছিলে প্রেমের মহিমা
না,তুমি তা পারো না!
যে চিরকাল দাড়িয়ে থাকে সন্ধ্যার মুখোমুখি
তাকে অন্ধকারের ত্রাস গিলতে পারে না।
তার চেয়ে বরং তুমি অন্ধকারের আলো হও
আমি তোমাকে ছুয়েই তৃপ্তিতে ভরাই ডুবন্ত অবসাদের ঘেন্না ।

সাতনরী হার

মেঘ টেনে নেয় আকাশের নীল রঙ,
দুঃখী বাতাসে উড়ছে তাহার শাড়ীর আঁচল।
প্রার্থনা করি নির্জন নিশীতে বসে
ভোরের তর্জমায় ফিকে রোদ্দুর এসে হাসে।
দিবাস্বপ্নের গভীর ঘুমে-
দেখি বনলতা সেনের মতো দুটি চোখ
আমাকে তার হৃদয়ে করেছে সমর্পণ।
সাতনরী হার গলায় পরে-
ডাকিছে দেবালয় কেন মরিবার তরে
জানে না প্রাণহীন অন্তঃনীলের বিষাদ ছোবল।

কস্তুরীর নীল গন্ধ

এখনো সুশীল সভ্যতার আকাশপথে
মনখারাপের বৃষ্টি ডাকে।
জাহ্নবীর গেয়ে যাওয়া গানের সুরে
ভোরের কলতান
চাঁপাকান্নায় গুমড়ে গুমড়ে কাঁদে।
নির্মমতার অচেনা পথে
এসেছি অনেকটা দূর!
নোঙরবিহীন জীবন; একেলাই ভীড়ে সমুদ্রতটে।
রবির আলোকচ্ছটা পিঙ্গলপায়ে হাঁটে
সাদা কস্তুরীর নীল গন্ধে।
দিন ফুরিয়ে যায়, রাত ঘনিয়ে আসে
হিমবাক্যর সুলিলিত কন্ঠস্বরে হয় উচ্চারিত
বুলেট দাও, মাগো গিলে খাই
গামছাবাঁধা পেটের নিদারুণ কষ্টে।

শেযার করুন...




© All rights reserved
Design & Developed BY ThemesBazar.Com