সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১:০৬ অপরাহ্ন

আলোক আজমের কবিতাগুচ্ছ

আলোক আজমের কবিতাগুচ্ছ

agooan
agooan

প্রার্থনা


সবুজ মাঠ, ঘাসফুলে সেজে আছে মাঠের বিছানা।

প্রতিদিন আসে নানান বয়েসি প্রাণ। বসে পড়ে ঘাসের বিছানায়। গল্পের ফাঁকে ফাঁকে তারা
সহাস্যে ছিঁড়ে ফেলে ফুলের হাসি।

আমি উদাস সংসার। আনমনে চেয়ে থাকি হিঙ্গুল আকাশ। চেয়ে আছি ঘাসফুলে রাঙানো সন্ধ্যাগগন।

কেউ কেউ উঠে গেল মসজিদে, কেউ কেউ ছুটে গেল মন্দিরে, কেউ গেল গির্জায়, কেউবা প্যাগোডায়…

আমি ছুটে যাই সবুজে। বিস্ময়ে দেখি ক্ষত বিক্ষত মাঠের বিছানায় রক্তাক্ত ঘাসফুল…
সান্ধ্যপ্রার্থনা কুরে কুরে খায় লোহিত সবুজ।

আমার মুনাজাতের হাত মুহূর্তেই হয়ে যায় রক্তাক্ত নৌকা।

জেগে ওঠে নবম শ্রেণি



জেগে ওঠে নিষিদ্ধ গন্দম। জেগে ওঠে ভোর পরবর্তী রোদের দীপ্তি। নিয়মপ্রাচীর ডিঙিয়ে দীর্ঘলাফের প্রতিযোগিতায় মত্ত বিপদগ্রস্ত একটি সময় জেগে ওঠে, বুকের বন্দরে।

আকাশ ভাঙার নেশায় হাতুড়ি নিয়ে দুর্বার ছুটে চলা একটি স্লোগান, জেগে ওঠে অবিরাম। গোপন প্রণয়াকর্ষণে সমত্ত সবুজ হৃদয়ে, ছোঁয়াছুঁয়ির সুতীব্র শিহরণ শেষে জেগে ওঠে পাপবোধ।

জেগে ওঠে চোখের নেশায় কিশোরীর মেঘলা চুলের ফণিত বেণী; জেগে ওঠে ভোর থেকে মধ্যদুপুরে একগাদা সহাস্য নবম শ্রেণি।


কবি

নিস্তব্ধ রাত। ঘুমিয়ে আছে সমস্ত চরাচর। তবে জেগে আছে একটি নিঃসঙ্গ চাঁদ, ব্যথাতুর সমূহ তারা এবং একজন দুঃখচাষা।

চাষার হাতে লাঙ্গল, মাথায় কল্পনা। লাঙ্গল চষে যায় মসৃণ শাদা জমিন। জমিন হয়ে ওঠে বেদনার কালো তিমির। সমস্ত অবয়বে এবড়ো থেবড়ো সারি, কালো কালো দুঃখ-তীলক…

ফুরায় রাত। ভোর হলে জেগে ওঠে মুখর পৃথিবী। ঠিক তখনই ঘুমিয়ে পড়ে ক্লান্ত চাষা।

টেবিলে অসহায় পড়ে থাকে সমস্ত চাষাবাদ…


কাশফুল


শাদা মেঘ ছড়িয়ে পড়েছে পথে। পথ ছুটে চলেছে দিগন্তে। যেখানে সবুজ মেয়েরা বোনে মিতালি আকাশ।

মেয়েদের মন বুঝতে না পারার ব্যর্থতা নিয়ে নিঃশব্দে হেসে ওঠেন ঈশ্বর। সে হাসির সাথে যাদের পরিচয় আছে, তারা ঈশ্বরের আকাশে উড়িয়ে দেয় পেঁজাতুলো।

উড়তে না পারার বেদনা লুকিয়ে ধাবমান মেঘের সাথে সহাস্যে পাতে মিতালি। দোল খায়। হেসে কুটি কুটি হয়। দাঁড়িয়ে থাকার চেয়ে হেঁটে চলা ভালো জেনেও, দাঁড়িয়ে থাকে; থাকতে হয়। গায় নিঃসঙ্গতার গান। বিলিয়ে যায় যাবতীয় শূভ্রতা, বিনামূল্যে।

শাদা মেঘ ছড়িযে পড়েছে পথে। পথ ছুটে চলে দিগন্তে। যেখানে সবুজ মেয়েরা বোনে মিতালি আকাশ। আর আকাশে আকাশে ফুটে থাকে অজস্র কাশফুল।

মিরাস


বাবার ছিল প্রখর রোদে দুঃখঝাঁপি মাথায় নিয়ে ছোটা বিষণ্ন এক ফেরিওয়ালা দৌড়।
তবুও খুব ভোরে সেই দৌড় থেকে খানিকটা ঘাম আর কুড়িয়ে পাওয়া যৎকিঞ্চিৎ তরল আলো পুঁজি হিসেবে জমিয়ে রেখেছি বুকের বাক্সে। জানি, সে আলো জমাট হয়ে একদিন একটুকরো সোনা হবে দামি। পূর্বপুরুষের মিরাছ হিসেবে পাওয়া সেই সোনা বিলিয়ে দেব তখন উত্তর প্রজন্মে।

আমিও ছুটছি নিরন্তর ভোর থেকে দুপুর, দুপুর থেকে রাতের দিকে; রেখে যেতে কিছু আলো।

জানি না, আমার সন্তান সেই আলো কতটা জমাতে পারে নিজের সিনায়।

শেযার করুন...




© All rights reserved
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
You cannot copy content of this page