বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:১৬ অপরাহ্ন

কলম একটি আদিম খেলা: মারুফ কামরুল

কলম একটি আদিম খেলা: মারুফ কামরুল

পদ্মকিরণ। ছেলেটা ঘোর ঘোর চোখ নিয়ে চলে। ভিষন রকম ভাবতে পারে। অন্ধকার ঘর তার পছন্দের একটি। সেখান থেকে বেরিয়ে যখন আসে, চোখে মুখে তৃপ্তির ছাপ থাকে।

গত সপ্তাহ থেকে ভিন্ন রকম কলম খেলায় মেতে আছে। কলমের ক্যাপ খুলে নাড়াচাড়া করে, আবার লাগায়। কতো রকমে খুলে আর কতো ভাবে লাগায় হিসাব নাই। মগ্ন হয়ে তাঁকিয়ে থাকে- মুখসার শরীর ঘেষে কীভাবে কলম প্রবেশ করে! প্রবেশের সময় কিছুদূর গেলে ধীরে ধীরে পথ চেপে আসে, একটু জোরে চাপ দিতেই টুক্ করে শব্দ হয়ে কলম তার মুখসায় এটে বসে। টুক্ শব্দটি যেনো কলমের তৃপ্তির ঢেকুর। এভাবে একই কাজ বারবার করে পদ্ম। ধীরে ধীরে ছেলেটার মুখ লাল হয়ে উঠে। ঠিক রক্তজবার লাল। কেনো লাল হয়ে যায়! কী এমন খেলে রক্তের ভেতর? মস্তিষ্ক হয়তো সে কথা জানে।

ইস্কুলে গিয়ে সহপাঠীদের কলম চেয়ে নেয়, কখনো কেড়েও নেয়। এক কলমের ক্যাপে অন্য কলম প্রবেশ করায়। নতুন নতুন মুখসায় কলমের প্রবেশ করার ভঙ্গি দেখে সে আনন্দ পায়। কোনো মুখসা কলমের শরীর থেকে আলগা থাকলে,ঢিলেডালা হলে আচমকাই হেসে উঠে। কিংবা টাইট হলে জোরে করে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। সফল হলে আনন্দে-পরিতৃপ্তিতে ঘনঘন নিশ্বাস ছাড়ে। বন্ধুরা যদি জানতে চায়, কিরে এমন হেসে উঠলি যে! একটা ছোট্ট উত্তর, ‘ওসব তোরা বুঝবি না’ বলে আবার নিজের কাজে মন দেয়। একদিন ক্লাসের বোকাসোকা মেয়েটা এসে বললো, পদ্ম, তুই কলম নিয়ে এসব করবি না, দেখলে গা ঘিনঘিন করে। মেয়েটা কী বুঝে এটা বললো পদ্ম জানে না। আর কেনোই বা তাঁর গা ঘিনঘিন করবে! পদ্ম এসব নিয়ে ভাবতি গিয়েও ভাবেনি। ছেলেটা বরং এটা ভাবে যে, সে দেখতো পাড়ার ছেলেরা এবং তার সহপাঠীরা বাম হাতের বৃদ্ধা আঙুল আর তরজনি দিয়ে গোল করে এর ভেতর কলম ডুকিয়ে একজন অন্যজনকে বলতো, তোর মায়রে- তোর বইনেরে। ওরা মাকে আর বোনকে কী করতে চায়- ছেলেটার প্রশ্ন! ছেলেটা ভাবে, যখন পাড়ার ছেলেরা এসব বলতো, ওদের মুখও লাল হয়ে উঠতো, ওরা ক্যামন যেনো আনন্দ পেতো। ওর প্রশ্ন এসব আনন্দে শরীরে কম্পন হয় কেনো! মুখে লাল আভা দেখা দেয় কেনো? এ উত্তরগুলো সে পায় নি। কোথায় পাবে! এটা ভাবতে ভাবতে আমাদের চোখের সামনে জীবন জীবনে প্রবেশ করে আটো হয়ে বসে যায়।

যখন যে ম্যাম ক্লাসে আসে, ওর এই কলম খেলা দেখে চোখ সরিয়ে নেয়। তাদের মুখে কিছুটা অস্বস্থির ছাপ। তবুও কেউ কেউ আড় চোখে চায়। পদ্মের নজরে পড়লে আবার চোখ সরিয়ে নেয়। বুকের উপর আঁচলটা একটু টেনেটুনে ঠিক করে। কোনো কোনো ম্যাম ছেলেটার হাত থেকে কলম নিয়ে যায়। চোখে মুখে এমন ভাব করে, যেনো ছেলেটা কাউকে খুন করেছে। মাঝে মাঝে বিলকিস ম্যামের মুখও লাল হয়ে উঠতো ছেলেটার এসব দেখে। পদ্ম তখন ম্যামের মুখের দিকে চেয়ে থাকতো আর হাতের কলম প্রবেশ করাতো মুখসায়। ম্যাম ক্যামন সংকোচিত হয়ে বই বন্ধ করে বলতেন, বাকিটুকু আমরা কালকে পড়বো, ভালো থেকো। এরপর দ্রুত বেরিয়ে যেতেন, পদ্মের দিকে বারবার ফিরে তাকাতেন। ছেলেটা শুধু মিলিয়ে দেখে ম্যামও কী করে ওর মতোন লাল হয়ে উঠে। দুজনের লাল আভা দেখলেই ওর আনন্দ আরো বেড়ে যায়, গলা ছেড়ে চিৎকার করতে চায়। ম্যাম যখন পেছনে তাকায় তখন ওর জানতে ইচ্ছে করে, ম্যাম আপনি লাল হয়ে উঠেন কেনো? আপনিও বুঝি আনন্দ পান!

শেযার করুন...




© All rights reserved
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
You cannot copy content of this page