শনিবার, ১১ Jul ২০২০, ০২:০৩ পূর্বাহ্ন

জহুর কবিরের একগুচ্ছ কবিতা

জহুর কবিরের একগুচ্ছ কবিতা

কাব্য রাণী

কাব্য রাণী কোথায় গেলি পাইনা নাগাল তোর,
সকাল গেল রাত্রি গেল আসবে নতুন ভোর।
হাত বাড়িয়ে আকাশ আমায় ডাকেনাতো আর,
জ্বলেনাকো সন্ধ্যা তারা নিবিড় অন্ধকার।
নদী আমায় জল ছড়িয়ে ডাকেনাতো কাছে,
আশার কুঁড়ি তাই ধরেনা কাব্য নামের গাছে।
বনের পাখি গান শুনিয়ে ভরায়নাতো মন,
নীরব যেন কাব্য রাণী নেইতো উচাটন।
রাণীর বেশে এলোকেশে এসে ধরো হাত,
রাণী হীনা শূন্য কাটে রাজার প্রতি রাত।
অভিমানের দুয়ার ভাঙো মধুর অনুরাগে,
রাণী হীণা রাজার বুকে ভীষণ ব্যথা জাগে।

বর্ষার আলিঙ্গন

আমি মৃত্তিকার গভীর হতে শুনেছি
বর্ষার রিমঝিমঝিম ছন্দে তোমার
বয়ে চলার প্রতিধ্বনি।
কদম কেয়ার স্নিগ্ধ সুরভী আবির
অঞ্জন করে মাখা ষোড়শীর নীলাচলে
প্রথম প্রেমের পরশ শিহরিত
মানস চিত্তে অঙ্কিত লীলায়িত
অভিসার আল্পনা দেখেছি নিগূঢ় নিরিক্ষণে।
কাজল মেঘের কল্প তরী বেয়ে
মেঘে ভেসে ভেসে বিজলী আলোয়
এই বাংলার নিরুপম সৌন্দর্য
অবলোকনে স্বপ্নের পায়রাটা
সজল বাতাসে ভাসিয়ে আমার
অভিষেক কাব্যের সাতনরি হার গেঁথেছি।
গ্রীষ্মের মলিনতা ধোয়া পত্রপল্লবী
সবুজ করেছে আমার তৃষিত হৃদয়
দেখিয়েছে আগামীর দিশা
সরিয়ে নিরাশার ঘন অমানিশা।
জানালার আরশিতে দু’চোখ রেখে
জারুল শাখের চাতকিনীর
পুলকিত স্নানে বিভোর সিক্ত প্রকৃতির
রূপ লাবন্যের মোহনাতে আমার
প্রস্ফুটিত কামনার মুকুলিত মহুয়া
পাপড়ি মেলে মরণ সুখ খোঁজে
বর্ষণ মুখর ক্ষণে নিরজনে
অনুভবের মৌন আলিঙ্গনে অনুক্ষণ।

পাথর খেয়ে বেঁচে থাকি

বিধ্বংসী প্রলয়ের রাত্রিতে
মুক্ত রাশি মৃত্যুুর আতর পরে নিরুপায়
হয়ে অরক্ষিত ঘুমিয়ে থাকা এক পরিত্যক্ত
মফস্বল শহর আমি
কাউকে সুখের বাঁধনে যায়না বাঁধা
কালের স্রোত ভাসিয়ে নেয় বিশ্বাসের
রুগ্ন খুঁটি

অক্টোপাস স্বপ্ন বুড়োআঙুল দেখিয়ে
খেয়ালি হাসির হাতুড়িতে পেরেক ঢুকায়
জরায়ু হতে মাথা

অভিশপ্ত সুখের নীলগিরিতে গুপ্তচরেরা
বেয়ান্দাজ বেয়নেটে ছিদ্র করে ফলবতী গাছ

তিরিক্কি সায়াহ্ন মেজাজ নিশ্চুপ
কামুকা চেটেপুটে খায়
খিদের গন্ধ নিরামিষ শরীর জুড়ে
পাথর খেয়ে বেঁচে থাকি
পাথুরে হৃদয়ে কাব্য চলেনা কবি

আবার কাব্য শোনায় কবি
পাথরের পৃথিবীতে ফুল ফোটাবে
মেঘবতী বিকেলের নীরব শূণ্যপুরে

শেয়ার করুন...




© All rights reserved
Design & Developed BY ThemesBazar.Com