চট্টগ্রাম এখন জনবিচ্ছিন্ন নগরীতে পরিণত হয়েছে: ডা. শাহাদাত

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, চট্টগ্রাম এখন জনবিচ্ছিন্ন নগরীতে পরিণত হয়েছে। আমরা বারবার যেটা অনুমান করছিলাম,

বর্ষা মৌসুম আসার আগেই জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করতে না পারলে পুরনো নগরী জলে ডুবে যাবে। সেই আশঙ্কা সত্যি হলো।

তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই আজ পুরো নগরী জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত হয়েছে। কেউ ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী হতে সবশ্রেণির মানুষকে আজ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

রোববার (১৯ জুন) পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আকবরশাহ এলাকায় আর্থিক অনুদান প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন। পাহাড়ধসে নিহতদের পরিবারের মধ্যে এ আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়।

মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতির কারণে আজ নগরীর এই বেহাল দশা উল্লেখ করে বিএনপির এ নেতা বলেন, জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি নয় বলেই জনগণের কল্যাণে এই সরকার কোনো কাজ করছে না। তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়, তাই জনগণের কাছে তাদের কোনো জবাবদিহিতা নেই।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, এই পাহাড়ধসে প্রতিবছরই নিহত হয়। কিন্তু কোনো স্থায়ী উদ্যোগ গ্রহণ করছে না সরকার। সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এটা রোধ কখনোই সম্ভব না।

ভূমি মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও সিডিএ সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে পাহাড়ের পাদদেশে যারা আছে তাদেরকে পুনর্বাসন করলে স্থায়ীভাবে পাহাড় ধসে মৃত্যু রোধ করা সম্ভব।

প্রতিবছরের পাহাড়ধস হওয়ার পরে যখন মানুষ হতাহত হয় তখন তাদেরকে সরিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু এটা কোনো স্থায়ী সমাধান না। তাদেরকে পুনর্বাসনের মাধ্যমে ওই এলাকা থেকে সরিয়ে আনতে হবে।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর বলেন, আমরা বিএনপির পক্ষ থেকে প্রতিবছরই দাবি করে আসছি ভূমিধসের স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে।

কিন্তু সরকারের কাছে বারবার দাবি জানানো হলেও সরকার কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। যার প্রেক্ষিতে প্রতিবছরে পাহাড়ধসে এভাবে তাজা প্রাণ ঝরে যাচ্ছে।

পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন কালে উপস্থিত ছিলেন ৯নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আব্দুস সাত্তার সেলিম, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জমির আহমেদ,

সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান চৌধুরী, থানা বিএনপির সহ-সভাপতি রেহান উদ্দিন প্রধান, জামাল কোম্পানি, যুগ্ম সম্পাদক পলাশ চৌধুরী, ফরহাদ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মাস্টার, ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি আবু হানিফ প্রমুখ।

Author: admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *