রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:০৬ পূর্বাহ্ন

পলাশফোটা রাত্রি: আল-সালিহ সাব্বির – পর্ব ৪

পলাশফোটা রাত্রি: আল-সালিহ সাব্বির – পর্ব ৪

agooan webmag, novel, serial novel, love novel, humayun ahmed novel, bangla novel, sadat hossain novel, dharabahik uponnas, ধারবাহিক উপন্যাস, পলাশ ফোটা ভোর

পড়ুন: পর্ব ৩

চার

হঠাৎ পলাশের মাথায় এক অদ্ভুত চিন্তা আসে। যদি এখন সে রাত্রির নাম্বারে কল দেয় তবে কি খুব মাইন্ড করবে? রাত্রি মেয়েটা চমৎকার আবৃত্তি করে। অবশ্য সে শুধুমাত্র একটা আবৃত্তিই শুনেছে। মেয়েটাকে দেখে মনে হচ্ছে মাইন্ড করবে না। গোল মুখের মেয়েরা সাধারণত তেমন অহংকারী হয় না। এদের মনে অনেক মায়া, কঠিন গলায় কাউকে কিছু বলতেও পারে না।
আচ্ছা, পলাশ যদি এখন কল দিয়ে বলে যে আমাকে একটা আবৃত্তি শোনান না? সে কি মাইন্ড করবে নাকি হেসে ফেলে বলবে, ‘আচ্ছা শুনুন তাহলে।’
‘পরের জন্মে বয়স যখন ষোলোই সঠিক
আমরা তখন প্রেমে পড়বো
মনে থাকবে?
বুকের মধ্যে মস্ত বড় ছাদ থাকবে
শীতলপাটি বিছিয়ে দেব
সন্ধ্যে হলে বসবো দু’জন।’

তবে ডাক্তার মেয়ে তো একটু অহংকারী হতেও পারে; কিন্তু তাতে কিচ্ছু যায় আসে না। অপরিচিত একজন মেয়ে দুটো কথা শুনিয়ে দিলে কীই-বা হবে? সর্বোচ্চ বয়ফ্রেন্ড ফোন দিয়ে বলবে, চেনেন আমাকে? চাইলে আমি কি করতে পারি আপনার? অমুক পুলিশ অফিসার আমার আপন মামা। সাইবারক্রাইমে এমন মামলা দিয়ে দেব যে সারা জীবন চৌদ্দ শিকে আটকে থেকে মশার কামড় খেতে হবে। আমি সুন্দর করে গোলাপ তুলে এনে হাতের তালুতে রেখে বুড়ো আঙুল দিয়ে কচলে দু’ফোঁটা রস বের করে পুরো হাত গোলাপি করে ফেলতে পারি; অথচ আমার হাতে কখনো কোনো কাঁটা বিঁধে না। আর আপনি তো কোন ছাতার পলাশ!
পলাশের দরদ হচ্ছে রাত্রির বয়ফ্রেন্ডের কষ্টের কথা ভেবে; আবার হাসিও পাচ্ছে। অবশ্য এখন যদি গালিও দিত তবুও তার গায়ে লাগত না । তার খুব ভালো লাগছে। কেন এত খুশি খুশি লাগছে সে নিজেও জানে না। আচ্ছা, মেয়েটা কবিতাটির শেষ চার লাইন আবৃত্তি করল না কেন? মনেহয় তখন লজ্জায় গালদুটো লাল হয়ে গিয়েছিল। একটা লাজুক মেয়ে প্রেমের কবিতা আবৃত্তি করছে ব্যাপারটা আসলেই খুব ইন্টারেস্টিং। মেয়েটাকে এখন দেখতে ইচ্ছে করছে। লজ্জাবনত মেয়েদের দিকে একরাশ মুগ্ধতায় তাকিয়ে থাকার জন্য যদি একটু কম পাপের বিধান থাকত তাহলে বেশ হত।
হঠাৎ একটা চমৎকার আইডিয়া চলে আসে পলাশের মাথায়। ভাইয়া বিকেল বেলায় বলছিলেন যে তরল জাতীয় কিছু খেলেই দাঁত শিরশির করে। এটা উপলক্ষেও তো পরামর্শের জন্য একটা কল দেয়া যায়। মিষ্টি কন্ঠটাও শোনা হতো। আর কবিতা না-হয় এ পরিচয়েই শোনা যাবে অন্য কোনোদিন।
নিজেই রোগী সেজে কল দিলে আরো ইন্টারেস্টিং হবে ব্যাপারটা। ভাইয়া টাইপ কারো সাথে কথা বলতে আবার ভয়টয় পাবে না তো? দেখা যাক না কী হয়! এতো ভাবাভাবির দরকার নাই। রিং হচ্ছে…
–আসসালামু আলাইকুম।
(পলাশ সালামের জবাব না দিয়েই আবার সালাম দেয়। দিয়েই বিব্রতবোধ করে। উত্তর দিয়ে কথা বলা উচিত ছিল)
–আমি আমার ছোট ভাইয়ের কাছ থেকে আপনার নাম্বারটা পেয়েছি। আমার দাঁঁতে সমস্যা।
পলাশ যতোই গুছিয়ে কথা বলতে চাচ্ছে, ততোই এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। মিথ্যা বলছে বলেই হয়তো গোছাতে পারছে না। সত্য বলা কঠিন কিন্তু মিথ্যা বলা আরোও কঠিন। এ কারণে হলেও মিথ্যাবাদীদের সম্মান জানানো উচিত বলে মনে হচ্ছে পলাশের। বাব্বা! তারা যে কিভাবে এতো নিখুঁতভাবে বলতে পারে! সাধারণত ফোনে কথা বলতে গেলে সুন্দরভাবে গুছিয়ে কথা বলতে পারে সে কিন্তু আজকে সব গুলিয়ে ফেলছে পলাশ। মেয়েটা একটা সুন্দর হাসি দিয়ে জিজ্ঞেস করল,
–কী সমস্যা হয় আপনার?
পলাশ কাঁপাকাঁপা কণ্ঠে বলল, ‘দাঁত শিরশির করে।’ পলাশের মনে হচ্ছে মেয়েটা তাকে চিনে ফেলেছে এবং চোর ধরতে পেরে নিশ্চয়ই মনে মনে ভুবনভুলানো হাসি হাসছে সে।
রাত্রি পলাশকে বোঝাতে থাকে যে আমাদের দাঁতের তিনটা লেয়ার। বাইরের দিকে এনামেল, তারপর ডেন্টিন আর একেবারে ভেতরে থাকে পাল্প। এনামেল ক্ষয় হলে অনেক সময় শিরশির করতে পারে। আর ক্ষয় হতে হতে যদি পাল্পে চলে যায় তখন প্রচন্ড ব্যাথা হয়।
রাত্রির কথায় পলাশের কোন মনোযোগ নেই। সে মুগ্ধ হয়ে শুনছে মেয়েটা কত আগ্রহ নিয়ে তাকে বোঝাচ্ছে। এমন আগ্রহ নিয়ে কি এখন একটা কবিতা আবৃত্তি করবে? পলাশ বলে ওঠে, ‘আমার একবার পালপাইটিস হয়েছিল, রুট ক্যানেল করতে হয়েছিল।’ মেডিকেল টার্ম বলে ফেলে নিজেই বোকা সেজে যায় যে শেষে আবার বুঝে ফেলল কিনা! অবশ্য গুগলের সহযোগিতায় এখনকার রোগীরা অনেক স্মার্ট। অল্প কিছু মেডিকেল টার্ম জানতেই পারে।
স্বাস্থ্য পরামর্শ পাওয়ার পর ডাক্তারদের টেলিমেডিসিন সেবার প্রশংসা করতে ভুলে না পলাশ; কারণ যখন কোনো নন-মেডিকেল ব্যক্তি ডাক্তারি সেবা নিয়ে প্রশংসা করে তখন তার যে কত্ত ভালো লাগে সেটা সে জানে। রাত্রিরও নিশ্চয়ই ভালো লাগবে এবং সেই সুবাদে যদি কোনো একদিন বন্ধুত্ব হয়ে তবে আবৃত্তি শোনা যাবে প্রাণ ভরে। ফোনে কথা শেষ করেই পলাশ রাত্রিকে মেসেঞ্জারে এসএমএস করল,
–ভাইকে আপনার নাম্বার দিয়েছিলাম। ভাইয়ার সাথে কি আপনার কথা হয়েছে? উনি কিন্তু অনেক গল্প করেন। একটু সুযোগ পেলেই সমাজসংস্কৃতি নিয়ে দীর্ঘ বক্তব্য দিয়ে দেন তা তিনি পরিচিত হোন বা না-হোন।
–কই না তো; আমার সাথে অতিরিক্ত কোনো গল্প করেননি তো। উনি আপনার ভাই ছিলেন! আমাকে অবশ্য বললেন ছোট ভাইয়ের কাছে নাম্বার নিয়েছেন। কিন্তু সেই ছোটভাই যে আপনি সেটা বললেই তো চিনতে পারতাম।
পলাশ অনেক আগে থেকেই চিনত মেয়েটিকে। সামনে পড়লেই কেমন যেন লজ্জায় লাল হয়ে যেত। নিজে থেকে কখনো পরিচিত হতে যায়নি। কিন্তু ইচ্ছে হতো বন্ধু হতে। সেদিন একটা কবিতা আবৃত্তি শুনে মুগ্ধ হয়ে যায় পলাশ। তারপর ফেসবুকে নক দিয়ে প্রশংসা করে মেয়েটির। সেখান থেকেই গল্পের শুরু।
পলাশ কেন বলেছে যে তার ভাই বেশি কথা বলেন সেটা পলাশ ছাড়া কেউ জানে না। পলাশের হাসি পাচ্ছে। মেয়েটার ব্রেইনটা সেনসিটাইজড হয়ে আছে। আরেক দিন বড়োভাই সেজে ইচ্ছেমতো গল্প করা যাবে।

চলবে…

শেযার করুন...




© All rights reserved
Design & Developed BY ThemesBazar.Com