রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭:৪৬ পূর্বাহ্ন

আল মাহমুদের আত্মজীবনী; আমার স্মৃতিস্পর্শ: সুলতান আফজাল আইয়ূবী

আল মাহমুদের আত্মজীবনী; আমার স্মৃতিস্পর্শ: সুলতান আফজাল আইয়ূবী

agooan - book review - al mahmud - আগুয়ান - বই রিভিউ - কবি আল মাহমুদ
আগুয়ান - বই রিভিউ - কবি আল মাহমুদ

আল মাহমুদের সাথে প্রথম পরিচিত হই যখন দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ি। তখন মাদ্রাসার একটি অনুষ্ঠানে আমাদের পাঠ্য আল মাহমুদের “পাখির মতো” ছড়াটি আবৃত্তি করেছিলাম। এটিই ছিল আমার জীবনে প্রথম মাইক হাতে কিছু বলা। তাই ছোট বেলা থেকেই আল মাহমুদের প্রতি অন্যরকম এক ভালোবাসা কাজ করতো। “যেভাবে বেড়ে উঠি” আল মাহমুদের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ। আত্মজীবনী পড়ার মধ্যে আমার এক অন্যরকম শিহরন কাজ করে। যতদূর মনে পড়ে আত্মজীবনী প্রথম পড়েছিলাম “মুসলিম জাহানে” মাওলানা মুহিউদ্দিন খান (রহ.) “জীবনের খেলাঘরে” শিরোনামে। সাহিত্য হিসেবে আত্মজীবনীর প্রকাশ ঘটে উনিশ শতকের দিকে।


উইকিপিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারি দেওয়ান কার্তিকেয় চন্দ্র রায় প্রথম আত্মজীবনী রচনা করেন। সবার আত্মজীবনী এক মাপের ও এক চরিত্রের হয় না। কেউ কেউ আত্মজীবনী রচনার ক্ষেত্রে বাল্যস্মৃতির ওপর অধিকতর গুরুত্ব দিয়েছেন, আবার কেউ কেউ গুরুত্ব দিয়েছেন কর্মজীবনের ওপর। কিছু কিছু আত্মজীবনী আছে যেগুলির রচয়িতা সমকালীন আর্থ-সামাজিক এবং তৎকালীন পরিবেশ সম্পর্কের ওপর অধিকতর গুরুত্ব দিয়েছেন। শেষোক্ত ধরনের আত্মজীবনীর দ্বারা আসলেই অনেকটা উপকৃত হওয়া যায়। আল মাহমুদের “যেভাবে বেড়ে উঠি” ২০১৯ বই মেলার শেষদিন “প্রথমা” থেকে সংগ্রহ করেছিলাম। এটি পঞ্চম মুদ্রণ-১৯। এক বসাতে শেষ করা এটিই আমার প্রথম আত্মজীবনী গ্রন্থ। যেভাবে বেড়ে উঠি আনেকাংশেই আমার সাথে মিলে যাচ্ছিলো। যদিও তা বিস্তর ফারাক। তবুও, বিশেষ করে শৈশবের স্মৃতিগুলো, মক্তবে যাওয়া, শৈশব, কৈশরের দূরন্তপনা, তারুণ্যের উন্মাদনাগুলো পড়ে মনের অজান্তেই চোখ দিয়ে অশ্রু পড়েছে।


বিশেষ করে তাঁর দাদার সাথে লাঠি খেলার অংশটা পড়তে গিয়ে চোখ দিয়ে দু-ফোটা জল গড়িয়ে পড়েছিল। প্রত্যেক মানুষেরই বেড়ে উঠার সময়কালের স্মৃতি প্রায় একই ধরনের। আল মাহমুদের জীবন থেকে হারিয়ে যাওয়া কিছু চরিত্র, যাদের সাথে হৃদয়ের গভীর সম্পর্ক থাকার পরও অদ্ভুত কারণে জীবনে আর কখনো দেখা হয় না। যেমন,আলকি, নূরআলী, শোভা, হানু , সুফিয়া, বিশিদিদির সাথে কবির পরবর্তী জীবনে দেখা না হলেও তারা প্রতিমূহুর্ত রয়েছেন স্মৃতিতে। এ ধরনের স্মৃতি প্রত্যেকের জীবনেই আছে। আমি যখন ময়মনসিংহের বাবুল উলুমে নাহভেমীর জামাতে পড়ি তখন প্রায়ই বাড়িতে আসা যাওয়া করতাম ট্রেনে, একবার আমার সাথে এক বৃদ্ধ বসলেন, বয়সটা আনুমানিক ৬৫ হবে। গৌরিপুর জংশনে এসে ইঞ্জিন ঘুড়ানোর জন্য বিরতি দেয়। আমি চাচাকে বললাম চাচা আমার ব্যাগটা দেখেন, আমি একটু বাহিরে যাবো। আমার একটু দেরী হয়ে গেলো, ওদিকে ট্রেনও চলতে শুরু করলো, আমি কোন রকম দৌড়ে একটি বগিতে উঠলাম। কিশোরগঞ্জে নেমে আমি আমার বগি খুঁজতেছি ব্যাগের তালাশে, হঠাৎ দেখলাম দরজায় ব্যাগটা হাতে চাচা মিয়া দাঁড়ানো, আমাকে ধমকের স্বরে বললেন মিয়া ছাব কই গেছলেন গা? আমি আইনহের লাইগা পেরেশান অইয়া আছলাম, ব্যাগটা চাচার মিয়ার হাত থেকে নিতে নিতেই আবার ট্রেন চলতে শুরু করলো, চাচা মিয়ার চেহারাও ট্রেনের সাথে দূরে হারিয়ে গেলো। মূহুর্তের এই মায়া আমাকে আজও নাড়া দেয়। ট্রেনে ভ্রমন করলেই চাচা মিয়ার কথা মনে হয়। চাচার মিয়ার সাথে হয়তো আর জীবনেও দেখা হবে না তবুও ভাল থাকেন চাচা মিয়া। সবমিলিয়ে আল মাহমুদের আত্মজীবনী আমাকে দারুণ শিহরিত করেছে, বিমোহিত করেছে।

আল মাহমুদের যেভাবে বেড়ে ওঠি কিনতে এখানে ক্লিক করুন… https://www.rokomari.com/book/3714/jevabe-bere-uthi

শেযার করুন...




© All rights reserved
Design & Developed BY ThemesBazar.Com