বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২০, ০৫:২৮ পূর্বাহ্ন

মাহবুবা করিমের কবিতাগুচ্ছ

মাহবুবা করিমের কবিতাগুচ্ছ

প্রেমের কবিতা মাহবুবা করিম আগুয়ান mahbuba karim love poem agooan webmag

অজান্তেই-কত কী আছে তোমার!



যতবার হাসো—একটি গাছ রোপন করি অন্তরে।

জানো কী মেয়ে, সাতশত আট কোটি অর্জুন গাছ ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে হৃদয়ে? তুমি—বিষ ছড়ালেও তা শুষে নিয়ে অক্সিজেন ফিরিয়ে দেয়ার মত এতটা বনাঞ্চল হৃদয়ে নিয়ে ঘুরে বেড়াই এখন ।

যদি ঘৃণা দাও অথবা বিষ, যা-ই দাও–
বনাঞ্চল বাড়ুক—বনাঞ্চল বাড়িয়ে চলেছি নিরন্তন
হাসি থামিও না মেয়ে—হাসতে হয় অনন্তকাল।

সমুদ্র— ভালো লাগে না মেয়ে তোমার.. তাই অশ্রু লুকিয়ে পাহাড় গড়েছি অন্তর্লীনে। সিঁড়ি কাটি; কাটতে কাটতে ঘর পাতি ; সেই ঘর নিয়ে ঘুরে বেড়াই অন্তরপুরে। যদি ক্লান্ত হও, এসে জিরোও, শুতে চাও, ঘুমোতে চাও—

যদি নাই চাও —ঘরে আলো জ্বলে—জ্বলুক, ঘরে জোনাক জ্বলে—জ্বলুক। পাহাড় কেটনা মেয়ে—পাহাড় কাটতে নেই।

যদি তৃষ্ণার্ত হও, হও যদি, জেনো —
একটি মিঠা নদী আজন্ম বয়ে বেড়াই ঠোঁটে।

অথচ—এক কোটি বছর! এক কোটি বছর
কত অজানা ঘর, বনাঞ্চল ও নদী আছে তোমার -অজানাই।

আপনার প্রেমিকা হতে চাই



শুনেছি–
পিথাগোরাসের মারপ্যাঁচ বোঝেন; ক্যামিস্ট্রি মোটেও বোঝেন না। অথচ কী না পিওর ব্যাচেলর..

ঘরে ইঁদুরের সাম্রাজ্য, মনে জং ধরেছে
আপনার ঠোঁটে ছাপ পড়েছে আগুনের;
একবার সুযোগ দিন না প্লিজ—
চুমুর ছাপ ফেলে দিই…

শুনেছি–
ইদানীং চায়ে চিনি ঢালছেন বেশি।রোজ রোজ হাত পুড়িয়ে ফেলছেন। ভুলে যাচ্ছেন স্বল্পায়ু জীবনে একটি প্রেমিকা থাকা কতটা জরুরী।

একটি সুযোগ দিয়েই দেখুন প্লিজ,
তল্পিতল্পা গুটিয়ে আপনার ভেতরে ঢুকে পড়ি; প্রেমিকা হই–
প্রেমিকা হয়ে খুব করে গুছিয়ে দেই আপনাকে।

ঈশ্বর পথিকের অন্তরে



সন্ধান পেলাম একটি পরিত্যক্ত মন্দিরের
একটি গীর্জাও শুনলাম বুকের পাঁজড় খুলে হাহাকার নিয়ে বসে আছে।

এখানে কি ঈশ্বর আছেন ? (পথিক চেচালো)
(শাঁশাঁ শব্দে ঝাক ঝাক বাঁদুর উড়ে গেলো।প্রতিধ্বনি হলো)
ঈশ্বর….ঈশ্বর……. ঈশ্বর….
ঈশ্বর কি ঘুমিয়ে আছেন?
সেই ঘুমকে পুঁজি করে লাশের পর লাশ গুম হয়ে যাচ্ছে,
হাড্ডিসার শিশুর দুটো হাত খসে পড়ে যাচ্ছে ক্ষুধার্ত শরীর থেকে।

আফসোস–
পথ পড়ে আছে মন্দিরে
পথ পড়ে আছে মসজিদে
পথ পড়ে আছে গীর্জায়।
পথিক ঈশ্বরকে খুঁজে না বলেই
ঈশ্বর ঘুমিয়ে আছেন পথিকের বুকের ভেতর।

ঈশ্বর ঘুমিয়ে আছেন–
যারা উপাসনায় মগ্ন থাকার কথা, ওরা –এক ধর্ম অন্য ধর্মের মুণ্ডু কেটে ঝুলিয়ে দিচ্ছে সীমানায়। ওরা একে অন্যের গাঁ-এ ছুঁড়ে দিচ্ছে ঘৃণার পেচ্ছাব। ওরা বারুদে বিপ্লবে আগুনে জঙ্গি হয়ে উঠছে, রাক্ষস হয়ে উঠছে, মানুষ খেকো দানব হয়ে উঠছে।
প্রতিহিংসায় জ্বলজ্বল করছে ওদের হায়নার চোখ
ওদের আরো লাশ চাই-লাশের স্তুপ চাই।

ঈশ্বর ঘুমাচ্ছেন–
ওরা মানুষের লাশে – রক্তে হিংসার ইটে-কংক্রিটে
আরও একটি মন্দির গড়ছে
মসজিদ গড়ছে
গীর্জা গড়ছে
আর তা পরিত্যক্ত হচ্ছে পথিকের অভাবে।

ধন্যবাদ দক্ষিণবঙ্গকে।

মৃদুমন্দ



দেখবো—দেখাবো
কামুক অপরাজিতা
তোমার বুকে ঢালবো বিয়ারের বুদবুদ
ঠোঁটের ওপর — কাফফারা দিব একত্রিশ চুম্বন

এইভাবে ভালোবাসা ছুড়বো
যতদিন আমার সমুদ্রে তুমি ডুবে না মরো।


যদি তোমার উষ্ণতা দাও—
আস্ত স্বর্গ বিনীত অনুরোধ জানাবে পায়ের কাছে


আমার এমন লাগছে কেন,
ঘুম আসছে না, ঘোর কাটছে না,
তুমি কী বুকের ডানে আমার ছবি চেপে ধরে আছো
নাকি চুমু খাচ্ছো অদৃশ্য ঠোঁটের খাপে?


বৃষ্টি এলেই এ শহরে ধুম প্রেম বর্ষণ
রিকশার হুট উঠিয়ে প্রেমিকের গভীর চুম্বন।

শেয়ার করুন...




© All rights reserved
Design & Developed BY ThemesBazar.Com