রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:৫০ পূর্বাহ্ন

রোমান বন্দুকসী-এর একগুচ্ছ কবিতা

রোমান বন্দুকসী-এর একগুচ্ছ কবিতা

agooan webmag, dr shakhawat hoosain sayantha, sayantho shakhawat. dhaner shish, g9, bnp, talkshow, sayantho talkshow, সায়ন্থ সাখাওয়াৎ, ডা. সায়ন্থ সাখাওয়াৎ, ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্থ, বিএনপি, ধানের শীষ, জি নাইন, বিএনপি বুদ্ধিজীবি, টকশো আলোচক, সায়ন্থ টকশো, কবিতা, প্রেমের কবিতা, প্রিয় কবিতা, গদ্য কবিতা, বাংলা কবিতা, poem, kobita, love poem, agooan poem,

নক্ষত্রের অপমৃত্যু

মৃত্যুর নকশা এঁকে ঝুলিয়ে রেখেছি নক্ষত্রের বুকে
শকুনের লালায় আবৃত পৃথিবীর বার্ষিক-আহ্নিক বিবর্তনে ছেয়ে আসবে মৃত্যুর ঝড়!
খসে পড়বে নক্ষত্রের ব্যর্থতায় রয়ে যাওয়া মলিন সতেজ কঙ্কাল আবৃত চামড়া
নিথর মাংসপিন্ড নিয়ে উৎসবে মেতে উঠবে দেহখেকু পোকামাকড়।
উত্তপ্ত লাভায় বইবে শীতল নদী।
মরুর বুকে ধসে পড়বে হিমালয়
কেঁদে উঠবে নক্ষত্র, লেগে যাবে সূর্যগ্রহণ।

আমাকে পোড়াতে না পারার অপরাধে তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে খসে পড়বে নক্ষত্র!
গালি দেবার আগেই মুখ লুকাবে ঘন-মেঘের আড়ালে!
পৃথিবী ছেয়ে আসবে অন্ধকার..
ছাপা হবে নক্ষত্রের অপমৃত্যুর ভয়ানক খবর।

আমার বীভৎস ভয়ঙ্কর হাসিতে কেঁপে উঠবে পৃথিবী!
ঝরে পড়বে গ্রহ-উপগ্রহ নক্ষত্র অভিকর্ষ মহাকর্ষ চির বন্ধন ভুলে।
নাড়া দিয়ে যাবে ছায়াপথ সুপারভার্স ইউনিভার্স এর মত মহা সৃষ্টিকেও।

অথচ!
প্রেমিকার বুকের দুই ইঞ্চি গভীরে আবিষ্কার করেছি!
লাভা কিংবা সূর্য!
লালচে অগ্নিপিণ্ড কিংবা দাবানলের চেয়ে
ভয়ঙ্কর উত্তপ্ত নক্ষত্র!
যার উত্তাপে পুড়ছি
দিবা-রাত্রি
সকাল- সন্ধ্যায়
জীবিত কিংবা মৃত।

আমি এক অপরিপক্ব কবি

সোনালি শৈশব পেরিয়ে দূরন্ত কৈশোর আমার
বুক পকেটের কয়েক ইঞ্চি গভীরের সুপ্ত, নির্লজ্জ আবেগ মাথাচাড়া দিয়ে বসে!
গ্রাস করে আমার সমস্ত দেহ সমস্ত হৃদয় সমস্ত মস্তিষ্ক।
কবি হবার তীব্র আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ছুটে চলেছি এ শহর থেকে ও শহর!
সমস্ত আবেগ পুঁজি করে লিখে ফেলি আমার প্রথম কবিতা।
খুব ভালবেসে বুকে একগুচ্ছ স্বপ্ন নিয়ে যত্ন করে নাম দিয়েছিলাম “ভালবাসা”!
নিজেকে পরিপক্ব কবি ভেবে পাঠ করতে লাগলাম প্রতিনিয়ত।
খুব যত্ন করে আর মায়া নিয়ে প্রেমিকাকে পাঠ করাতে লাগলাম আমার প্রথম কবিতা।
হঠাৎ বজ্রপাতের মত প্রেমিকা বলে উঠে
কি এক বিচ্ছিরি কবিতা!
নেই কোন ভালবাসা নেই কোন বিশ্বাস নেই কোন মায়ার শব্দ যুগল।
তুমি এখনো পরিপক্ব কবি হয়ে উঠতে পারোনি
তুমি এক অপরিপক্ব কবি!
আবাক হয়ে তার চোখের দিকে তাকিয়ে রইলাম
আমাকে ছুঁড়ে মারলো বিষণ্ণতার এক বিষাক্ত তীর।
বুকের গহীনে বেশ গভীর যন্ত্রণা অনুভব করলাম,
আবিষ্কার করলাম রক্তাক্ত এক গহীন ক্ষত।
যার চিকিৎসার অভাবে মৃত্যু হয় স্বয়ং চিকিৎসকের কিংবা দেবতার।

দ্বিধার চৌকাঠ পেরিয়ে ভুল মেনে নিলাম
কবি হবার ব্যর্থ প্রয়াস ছিলো আমার।
কবিতার নামকরণেই ভুল করেছি আমি!
যেখানে নাম হবার ছিলো বিষণ্ণতা ঘেরা বিরহ নদী অথচ আমি নাম দিয়েছিলাম ভালবাসা।
একটু একটু করে কবি হবার যে ইচ্ছে আবেগ স্বপ্ন বুনেছিলাম
তা হরহামেশাই ভেঙ্গে পড়লো কাঁচের দেওয়ালের মত!
নির্লজ্জ আবেগ ও আমায় পরিত্যক্ত ঘোষণা করলো!
বুঝে নিলাম,
আমি এক অপরিপক্ব কবি
আমি এক পরিপক্ব কবি।

আমার আপনাকেই চাই

হাওর কূলে শত মানুষের ভিড়ে একজোড়া অচেনা চোখ!
মুগ্ধ হলাম বন্দি হলাম চোখের মায়ায়।
অচেনা অজানা মায়া তবুও যেনো কত গভীর কত স্নিগ্ধ কত আপন!
এক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকলাম।
সাইরেন বাজিয়ে যদি পৃথিবীর ধ্বংসলীলা নেমে আসে
তবুও আমার চোখ জোড়া আপনার ঠিকানাই চায়।
আপনাকেই দেখতে চায়।
হাওরের বিশুদ্ধ বাতাস আপন প্রশ্বাসে আপন করে নিলেন
অথচ এতে যেনো আমায় এক জনম আপনার করে রাখতে সাক্ষর করালেন চুক্তিনামায়,
আমার প্রেমের সংবিধানে জুড়ে দিলেন আপনার নামটি!

অজানা কারনে আপনি হেসে উঠলেন
অবাক হলাম! বিস্মিত চোখে তাকিয়ে থাকলাম
বুঝে নিলাম কারোর হাসিতেও মাতাল হওয়া যায়!
তবে এ ঘোর এ নেশা এক জনমের এক হৃদয়ের।

হঠাৎ আমার চোখে আপনার চোখ..
আপনি অগোছালো হয়ে গেলেন
বারবার খোলা চুলগুলো চোখের সামনে উড়ে আসছিলো
তবুও তবুও দৃষ্টি হারালেন না, এক পলকে চেয়ে থাকলেন।
যেন আমাদের শত জনমের পরিচয় স্বর্গীয় পরিচয়
বুঝে নিলাম এ জনমে আমার আপনাকেই চাই।

দুঃখবিলাস

এ জীবন সাদা কাগজে আঁকা চিত্র নয়
রাবার ঘষলেই গ্রাফাইটের মতো মুছে যাবে না অতীত!
মেঘলা আকাশের ঘোর কেটে গেলে,
যেমন করে সূর্য উঁকি দেয়
তেমন করে সুখের প্রহর ঘনিয়ে এলে বেদনার নীল মশালে পুড়ে যায় বুক!
চোখের কোন বেয়ে নেমে আসে ধ্বংসস্তূপ।
চাইলেই জীবনকে মোড়ানো যায় না রঙ্গিন অ্যালবামে!
কখনো বা জীবন, স্বপ্ন ডাস্টবিনের পাশে পড়ে থাকা শখের বস্তুর ন্যায় হয়ে থাকে,
তখন শত ডলারে কেনা চকচকে রঙ্গিন মোড়ানো কাগজ ছুঁড়ে দিতে হয়
যেমন করে জীবন বিভীষিকায় ছুঁড়ে দিতে স্বপ্ন বাঁচানোর ইচ্ছেকে।

শুনেছিলাম, এভাবেই নাকি বেঁচে থাকা যায়, বেঁচে থাকা নাকি সুন্দর!
জীবন স্বপ্নের বিচ্ছেদ ক্ষণে যে নীল বেদনার রশ্মি ছুঁয়েছে,
তা প্রতি রাতেই দাঁড়করায় বিযণ্ণতার কাঠগড়ায়,
আঁধার বেয়ে নেমে আসে দুঃখবিলাস অপূর্ণতার পান্ডুলিপি!

চাইলেই চিৎকার করে কাঁদা যায় না,
পুরুষের কান্না মানায় না বলে ধিক্কারে মেতে উঠবে সমাজ
চাইলেই প্রাণ খুলে হাসা যায় না,
পাগল বলে উপহাস করবে পৃথিবী।
এভাবেই দিনের পর দিন তাড়া করে স্মৃতি,
আমিও মেনে নিয়েছি পৃথিবীর এই নিয়ম!

হাসি মুখে বেঁচে থেকেও,
হৃদয়ের গোপন ঘরে উদযাপন করি দুঃখবিলাস।

শেযার করুন...




© All rights reserved
Design & Developed BY ThemesBazar.Com