শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০২:১০ পূর্বাহ্ন

আল মাহমুদের কবিতা

আল মাহমুদের কবিতা

কবি আল মাহমুদ - আগুয়ান - ওয়েবম্যাগ - Al mahmud - Agooan


সোনালি কাবিন

সোনার দিনার নেই, দেনমোহর চেয়ো না হরিণী
যদি নাও, দিতে পারি কাবিনবিহীন হাত দু’টি,
আত্নবিক্র‍য়ের স্বর্ণ কোনকালে সঞ্চয় করিনি
আহত বিক্ষত করে চারিদিকে চতুর ভুক্র‍ুটি;
ভালোবাসা দাও যদি আমি দেব আমার চুম্বন,
ছলনা জানিনা বলে আর কোন ব্যবসা শিখিনি;
দেহ দিলে দেহ পাবে, দেহের অধিক মূলধন?
আমার তো নেই সখি, যেই পণ্যে অলংকার কিনি।
বিবসন হও যদি দেখতে পাবে আমাকে সরল
পৌরুষ আবৃত করে জলপাইর পাতাও থাকবে না;
তুমি যদি খাও তবে আমাকেও দিও সেই ফল
জ্ঞানে ও অজ্ঞানে দোঁহে পরস্পর হবো চিরচেনা
পরাজিত নয় নারী, পরাজিত হয় না কবিরা;
দারুন আহত বটে আর্ত আজ শিরা-উপশিরা।


লোক লোকান্তর

আমার চেতনা যেন শাদা এক সত্যিকার পাখি
বসে আছে সবুজ অরণ্যে এক চন্দনের ডালে;
মাথার উপরে নিচে বনচারী বাতাসের তালে
দোলে বন্য পানলতা, সুগন্ধি পরাগে মাখামাখি
হয়ে আছে ঠোঁট তার। আর দুটি চোখের কোটরে
কাটা সুপারির রঙ, পা সবুজ, নখ তীব্র লাল
যেন তার তন্ত্রে মন্ত্রে ভরে আছে চন্দনেরডাল
চোখ যে রাখতে নারি এত বন্য ঝোপের ওপরে।
তাকাতে পারি না আমি রূপে তার যেন এত ভয়
যখনি উজ্জ্বল হয় আমার এ চেতনার মণি,
মনে হয় কেটে যাবে, ছিঁড়ে যাবে সমস্ত বাঁধুনি
সংসার সমাজ ধর্ম তুচ্ছ হয়ে যাবে লোকালয়।
লোক থেকে লোকান্তরে আমি যেন স্তব্ধ হয়ে শুনি
আহত কবির গান। কবিতার আসন্ন বিজয়।


শোকের লোবান

আমার ক্ষমতা নেই, আমি পারবো না; নারী
তুমি আর এসো না এখানে। নিজের দৈনের কথা
কতবার বলেছি তোমাকে। মহৎ শিল্পীর কাছে যাও;
হয়তো পাথরে তিনি ফোটাবেন, তেমন গরিমা। হয়তো বা
রঙের তুলিতে আঁকা অসাধ্য হবে না।
তারা সবি পারে, তারা
সহজ সাহসে সবি সাধনায় বশ করে নেয়
সহাস্য বদনে। তেমন সহজ কিছু
কবিরা পারে না।

অক্ষরে বিম্বিত হতে চাও যদি, খুলে ধরো সমস্ত গোপন।
কথা বলো, দুখের সুরভী যেন ঝরে যায়। যেন,
জ্বলে যায় শবাধারে শোকের লোবান।
নগ্ন হও, শিশু যেন দ্যাখেনি পোশাক।
ভালোবাসা তামসিক কামকলা শিখে এলে
যেন এক অক্ষয় যুবতী।

তখন কবিতা লেখা হতে পারে একটি কেবল,
যেম রমণে কম্পিতা কোনো কুমারীর
নিন্মনাভিমূল।

নোলক

আমার মায়ের সোনার নোলক হারিয়ে গেল শেষে
হেথায় খুঁজি হোথায় খুঁজি সারা বাংলাদেশে।
নদীর কাছে গিয়েছিলাম, আছে তোমার কাছে ?
-হাত দিওনা আমার শরীর ভরা বোয়াল মাছে।
বললো কেঁদে তিতাস নদী হরিণবেড়ের বাঁকে
শাদা পালক বকরা যেথায় পাখ ছড়িয়ে থাকে।
জল ছাড়িয়ে দল হারিয়ে গেলাম বনের দিক
সবুজ বনের হরিণ টিয়ে করে রে ঝিকমিক।
বনের কাছে এই মিনতি, ফিরিয়ে দেবে ভাই,
আমার মায়ের গয়না নিয়ে ঘরকে যেতে চাই।
কোথায় পাবো তোমার মায়ের হারিয়ে যাওয়া ধন
আমরা তো সব পাখপাখালি বনের সাধারণ।
সবুজ চুলে ফুল পিন্দেছি নোলক পরি নাতো !
ফুলের গন্ধ চাও যদি নাও, হাত পাতো হাত পাতো
বলে পাহাড় দেখায় তাহার আহার ভরা বুক
হাজার হরিণ পাতার ফাঁকে বাঁকিয়ে রাখে মুখ।
এলিয়ে খোঁপা রাত্রি এলেন, ফের বাড়ালাম পা
আমার মায়ের গয়না ছাড়া ঘরকে যাবো না ।

শেযার করুন...




© All rights reserved
Design & Developed BY ThemesBazar.Com