রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:৩২ পূর্বাহ্ন

সায়ন্থ সাখাওয়াৎ’র একগুচ্ছ কবিতা

সায়ন্থ সাখাওয়াৎ’র একগুচ্ছ কবিতা

agooan webmag, dr shakhawat hoosain sayantha, sayantho shakhawat. dhaner shish, g9, bnp, talkshow, sayantho talkshow, সায়ন্থ সাখাওয়াৎ, ডা. সায়ন্থ সাখাওয়াৎ, ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্থ, বিএনপি, ধানের শীষ, জি নাইন, বিএনপি বুদ্ধিজীবি, টকশো আলোচক, সায়ন্থ টকশো, কবিতা, প্রেমের কবিতা, প্রিয় কবিতা, গদ্য কবিতা, বাংলা কবিতা, poem, kobita, love poem, agooan poem,

আগ্নেয়গিরির চোখে জল

একজন কৃষিজীবী বাবা
হাটে মাঠে ক্ষেতে দাপুটে পা দু’খানি তার আছড়ে পড়ত যখন তখন। গলাটা গর্জে উঠত বাঘের মতন।
রাগে টগবগ করে ফুটত একজোড়া চোখ।
সকালের বাজার বৈকালিন হাট রাতের বৈঠক
তার অপেক্ষায় থাকত রোজ
তার বজ্রকণ্ঠের আওয়াজ ধানের পাতায় আঘাত করতে করতে উড়ে যেত গ্রাম ছেড়ে মাঠের ওপারে।

সখ বলতে ছিল তার গড়গড় শব্দে হুঁকোতে কয়েকটা টান আর প্রিয় সন্তানদের সুখ
নিজে কাস্তে হাতে নিয়ে সন্তানের হাতে দিয়েছিল কলম
অজ পাড়া গাঁয়ে জ্বেলে ছিল একগুচ্ছ আলোর মশাল।

এক সময় ছেলেরা তার লাল পতাকা হাতে দৌড়ায়
সাম্যের গান গায় কীর্তিনাশা, আড়িয়ালখা, পদ্মা বিধৌত জনপদে। সেই গানের সুর কেটে দিতে
খাকি ও জলপাই রঙ তাড়া করে আঁধার রাতে।

ছেলেরা তার জেলখানায় বন্দী
জেল থেকে জেলে তার যাতায়াত
জেলগেট তার অস্থায়ী ঠিকানা
কালো শিকের ওপারে আছড়ে পড়ে দীর্ঘশ্বাস
খাঁচার পাখির পানে চেয়ে থাকে একজোড়া আর্দ্র চোখ
টপ টপ করে তৃষ্ণার্ত বালুতে গড়িয়ে পড়ে ক’ফোটা কষ্ট
সন্তানের কষ্টে আগ্নেয়গিরিও তবে কাঁদে!
তার চোখেও আসে জল!

বুকে তার লাল সবুজের আলপনা

ওরা যখন আমাকে চিলের মত ছো মেরে
নম্বরবিহীন সাদা মাইক্রোবাসে তুলে নিল
আমি সদ্যফোটা মুরগীছানার মত
কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে তাকিয়ে রইলাম
তিন জোড়া সুঠাম পা আমার শরীরটাকে
মাংসের বস্তার মত চেপে রাখে গাড়ির ফ্লোরে
বুকের বাম পাশে ঠেকিয়ে রাখে ধাতব যন্ত্র
চোয়ালের পেশি শক্ত করে দাঁত খিচিয়ে বলে,
চুপ, একদম চুপ!
আমি হৈমন্তী বিলের পানির মত চুপ হয়ে থাকি
আমার কণ্ঠস্বর নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করে।

ওরা যখন আমার হাত দু’টো পিছমোড়া করে বাঁধে
চোখে শক্ত করে এঁটে দেয় গাঢ় কালো কাপড়
তখন থেকেই শুরু হয় ইহলৌকিক কবর-জীবন
আমি যেন এক জন্মান্ধ বিকলাঙ্গ শিশু
শুধু বুকের বামপাশে হৃৎপিন্ডের চিৎকারটা
আমাকে নিশ্চিত করে, এখনো বেঁচে আছি
ঘাতক বুটের ঠকঠক আওয়াজ প্রতিধ্বনি করে
তাতে শুধুই আমার মৃত্যু পরোয়ানা শুনি।

ওরা যখন আমার মুখে কাপড়ের পোটলা গুঁজে দিয়ে
টেনে টেনে একেকটা নখ উপড়ে ফেলে
তখনো আমি সে কাপড়ে দাঁত কামড়ে পড়ে থাকি
মনোজগতে লাল সবুজের প্রিয় আলপনা আঁকি
কোন ব্যথাই আমাকে আর স্পর্শ করে না!

ওরা যখন আমার শেষ নিঃশ্বাসটুকু কেড়ে নেয়
একবার জানতেও দেয়নি কী আমার অপরাধ
তাতেও আমার এতোটুকু আফসোস হয়নি
শুধু তোমার জন্য বুকের ভেতরটা হুহু করেছিল
মাগো, তুমি আমার মৃত্যুদিনটাও জানলে না
কোন দিন জানবে না, এপিটাফহীন কোন গহীন অরণ্যে
তোমার মানিকের বুকের ওপর বেড়ে ওঠা বনফুল
এঁকে চলে লাল সবুজের আলপনা।

যে টানে আজো পতঙ্গভূক আগুনের মতো

পাহাড়ি পথে উপরে উঠতে গিয়ে যখন হাঁপিয়ে উঠি
আমার ক্ষয়ে যাওয়া ছোট ছোট শ্বাস-প্রশ্বাস
আমার অবসন্ন পা লক্ষ্যহীন পতনের শব্দ শোনে
আমি তখন নিচে তাকিয়ে দেখি
অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছি
আরেকটু এগোলেই গন্তব্যচুড়া।
তখন আমার আর নেমে যেতে ইচ্ছে করে না
পেশি শক্ত করে চোখ বন্ধ করে ভাবি সেই মুখ
ভালোবেসে অনেকটা পথ এগিয়ে গিয়েও
ভালোবাসি বলতে না পারার গ্লানি পকেটে পুরে
ফিরে আসা বেদনা মোড়ানো সেই পরাজিত পথ
যে আমাকে ছুঁড়ে মেরেছিল প্রেমহীন খাদের কিনারায়।

পাহাড়ের চূড়ায় বাস করে না পাওয়া সেই মুখ
যে আমাকে এখনো টানে পতঙ্গভূক আগুনের মত
এবার আমি সেই আগুনের গালে এঁকে দেব সাহসী চুম্বন ।

সমুদ্রের ফেনিল ঢেউয়ের হাহাকারে ভিজে যখন
তীরের সঙ্গে ক্রমাগত দূরত্ব বাড়াতে থাকি
পায়ের নিচের বালু সরে যাওয়ার শিরশির অনুভূতি
আমাকে নিরুদ্দেশযাত্রার ভয়ার্ত বার্তা দেয়
আমি তখন আর ভীত চোখে পেছনে তাকাই না
সামনের দিকে তাকিয়ে সমুদ্রের কান্না শুনি
ঢেউয়ের ভাঁজে ভাঁজে ভাসে সেই স্নিগ্ধ মুখ
তেড়ে আসা ঢেউকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলি
পারলে আমাকে গ্রহণ কর আমিও সমুদ্র হব
বুকের মাঝে লালন করা সব নদী তোমাকেই দেব।

আমি আমার সচেতন স্বপ্নের চূড়ায় রাখি সেই মুখ
যাকে আমি পাইনি সাহসের কঠিন আকালের যুগে
আজ আমি তার জন্য উঠতে পারি পাহাড় চূড়ায়
ঢেউ ভেঙে যেতে যেতে মিশে যেতে পারি সাগর জলে
তবু আজ তাকেই চাই সে আমার সেরা প্রয়োজন
সে আমার প্রার্থনার শক্তি সে আমার বিমূর্ত ঈশ্বর।


বনসাঁই স্বপ্নরা তবে কাঁদে কেন

যতই ছোট হোক
স্বপ্ন তো স্বপ্নই
অদৃশ্য কাঁটাতারে যতই বাঁধা হোক তারে
তবু সে উড়বেই, আপন মনে হাসবেই।
পাহাড় চূড়ায় হাসে মুক্তোদানার চোখ
মেঘমালার চুমুতে কাঁপে তার বিশ্ব
হাইস্কুলের বালিকাদের সাদা ওড়নার মত উড়ে যায়
স্বপ্নের কাঁধে চড়ে পাড়ি দেয় জলের রাজ্যে
বিন্দু বিন্দু শিশির কণা গড়ে জলদ পৃথিবী।

মানুষ ঘুমায় অঘোরে
স্বপ্ন পাহারা দেয় তারে
মানুষ মরে যায়
স্বপ্ন রয়ে যায়
মিশে যায় উত্তর প্রজন্মে।

স্বপ্নেরও কী স্বপ্ন থাকে
ইচ্ছে হয় পাখা মেলে উড়তে
স্বপ্নের বুকেও কী হয় রক্তক্ষরণ
তারও কী একা লাগে স্বপ্নহীন শূন্যতায়
স্বপ্নেরও কী লাগে স্বপ্ন দেখানোর কেউ
বনসাই স্বপ্নরা তবে কাঁদে কেন
কী নেই তার কে গেছে ছেড়ে
কে তারে বেঁধেছে একহাত টবের ভেতরে!

অজগরের কালো উদরে কাঁদে কাশফুল

কী এক আজব অন্ধকার গিলে খাচ্ছে সব আলো
খামখেয়ালি গ্রহের উন্মাদনায় গরমিল হিসেবের খাতায়
কবির কলমে তালা বুদ্ধিজীবীর মাথায় ভর করেছে বন্ধ্যাত্ব
প্রেমিকের মন হয়ে ওঠে ধর্ষকের আড্ডাখানা
গুহাবাসী সন্ন্যাসী পুড়ে কামের জোয়ারে।

বেকার মগজে ঘুরে বেড়ায়
বৃত্তবন্দি স্যাঁতসেঁতে নারীগৃহের আর্তনাদ
ভেতরে খ্যাপা শুয়োরের ঘোতঘোত সঙ্গম
পাখিদের চোখ বেয়ে নেমে আসা জল
আড়মোড়া ভেঙে বেরিয়ে আসা জোড়া জোড়া তৃপ্ত চোখ
ঈশ্বরের ইশারায় ছিন্নমূল নারীর বেড়ে ওঠা পেট
অলৌকিক বন্দরে পিতৃত্বের ঋণহীন শিশুর চিৎকার
অচেনা সুরে কাঁদে ঝরা-পাতা, মরা-নক্ষত্র।

এমন তো হবার কথা ছিল না
স্বপ্নসন্ধানী পাখির পালকে পক্ষাঘাত
ভুল পথে বয়ে যায় অন্ধ নদী
বুকে তার কাশফুলের উৎসব
সব সাদা গিলে খায় অজগর
তার কালো উদরে কাঁদে বন্দি কাশফুল।

গোপন গল্প

তুমি আমার গোপন গল্প
না লেখা সব কবিতা
তুমিই আমার গোপন অশ্রু
একলা দেখার ছবিটা।

তুমি আমার দিনের চন্দ্র
আলোয় ঢাকা আলোটা
তুমিই আমার প্রেমের রাজ্যে
প্রবেশ দ্বারের চাবিটা।

একটা জীবন একটা তুমি
একটাই আমার উপাখ্যান
গোপন তুমি পূণ্য ভূমি
মনসাঁতারের এক উদ্যান।

প্রথম প্রেম

একদিন কীর্তিনাশার তীরে
প্রেম এসেছিল স্বর্ণালি সন্ধ্যায়
গাঙচিলের মতো উড়ে এসে
বসেছিল চোখের পাতায়।
সারা গায়ে শিরশির অনুভূতি মেখে দিয়ে
শুশুকের পিঠের মতো এক ঝলক দেখা দিয়েই
জলপথ ধরে চলে গেল সে।

মেঘে ঢাকা চাঁদ দেখব বলে চেয়ে থাকি
তার চলে যাওয়ার পথ ধরে।

একদিন এই বিজলি বাতির শহরেও
ঠোঁটে বাঁকা হাসি নিয়ে এসেছিল প্রেম
শ্রাবণের মেঘের মতো বহুরূপী স্নিগ্ধতায়
বিবশ রাত কেটেছে কঙ্কাবতীর কামড়ায়।
রহস্য উপন্যাসের শেষ ভাগের উত্তেজনায় ডুবিয়ে
ফণা তোলা সুন্দরী সাপের মতো
কোমর দুলিয়ে চলে গেছে সে।

আমি তার চলে যাওয়ার পথে তাকিয়ে থাকি
ঘষা কাঁচের মতো ঝাপসা স্মৃতি
পথ আগলে দাঁড়ায়
আমি শুধুই কীর্তিনাশার বয়ে চলা দেখি।

অবিশ্বাস

তোমরা যখন বল, সব ঠিকঠাক
সত্যি বলছি, আমি আতঙ্কে আঁতকে উঠি
বিশ্বাস কর, বুকের ভেতর অনবরত
শুনতে পাই দ্রিম দ্রিম হাতুড়ি পেটার শব্দ
কালনাগিনীর শিষ বাজে বাতাসে।

তোমাদের মুখে যখন শুনি
উন্নয়ন, প্রবৃদ্ধি, গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব, মানবাধিকার ইত্যাকার ভাওতাবাজি শব্দ
নিরন্ন পুষ্টিহীন অসংখ্য চোখ তখন অভিশাপ দেয়
কাঁটাতারে ঝুলন্ত ফালানীর লাশ নড়েচড়ে ওঠে
গুলিবিদ্ধ লাশের হ্যান্ডকাফ কাঁদে
আমার ভেতরে কেমন বিবমিষা হয়
গলগল করে বেরিয়ে আসতে চায় রক্তবমি
মূত্রথলিতে চাপ অনুভব করি।

তোমরা যখন বল, জীবনে চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই
শুধুই দিতে এসেছ
আমার চোখে ভেসে ওঠে বিস্মৃত বহুরূপী টানবাজার
খদ্দের ভোলানো মুচকি হাসি দেয়
সুইস ব্যাংক, পানামা পেপার, বেগম পাড়া।

তোমরা যখন বাক স্বাধীনতার কথা বল
আমার ভেতরে ডানা ঝাপ্টায় খাঁচাবন্দি কবুতর
যখন সুশাসনের কথা বল
বানের স্রোতের মত তেড়ে আসে ইউনিফর্মধারী লাঠিয়াল
গণপিটুনির শব্দে মগজ কাঁপে
যখন ন্যায়বিচারের কথা বল
বিকলাঙ্গ দাড়িপাল্লা হাতে হাসে এক চোখা বিচারক।

বিশ্বাস কর, তোমরা যদি বল
আজ ঝকমকে তেজোদীপ্ত সূর্য উঠবে
আমার আশঙ্কার ঘরে দানা বাঁধে প্রগাঢ় অন্ধকার
সে অন্ধকারে পেঁচার মতো জ্বলজ্বল করে
বেসুমার মিথ্যেবাদীর চোখ।

আয়না

একটা অদ্ভুত আয়নার সামনে দাঁড়াই
প্রতিদিন
নিখুঁত ভাবে দেখি আমাকে
ভেতর বাহির সব
পড়ে ফেলি প্রতিটা কোষ
সর্বজ্ঞ জ্যোতিষির মত
চোখ দুটোতে কেমন অবিশ্বাসের ছায়া
এতো খুঁত ধরার স্বভাব আমার !
ঘষে মেজে সাফ করি রোজ
তবুও কিছু কালো দাগ কেন যে রয়েই যায়
যতোই মুছি, কদর্য দাগগুলো বেরিয়েই পড়ে।
তবু মুছতে থাকি
মুছতেই থাকি
পূর্ব পুরুষের পাপের দাগ
পূর্ব জন্মের ভুলগুলি
বিগত দিনগুলোর জমানো দাগ
ইচ্ছা বা অনিচ্ছায়।
ইরেজারের আঁচড়ে দাগমোচন করি
খসে পড়া প্লাস্টারের ওপরে সযত্নে
ঝুলিয়ে দেই মন ভোলানো শিল্প
যদিও তা খুবই সাময়িক
কিছুকাল ঢেকে রাখার প্রয়াস আর কী
একদিন ঠিকই মুছে ফেলব সব পাপ
অদ্ভুত আয়নায় দেখে দেখে
অন্তর্লোকে চোখ রেখে।

কদাচিৎ আয়নাটাও হেসে ওঠে
আমার নাছোড়বান্দা ধরনের মোছামুছি দেখে।

নদী

একমুখী চির দুঃখী নদী
কালের সাক্ষী হয়ে বয়ে চলে নিরবধি
দিনভর বানিজ্য করে বুকে তার
আয়েশী খায়েসী কত সওদাগর
কে জানে তার কে সাধু আর কে বা চোর।
ব্যস্ত দিন শেষে ক্লান্ত রাত তারে করে আলিঙ্গন
রাত বাড়ে যতো মাছেদের জলকেলি বাড়ে ততো
পূর্ণিমার চাঁদ উবু হয়ে চুমু আঁকে তার চঞ্চলা বুকে
সারা গায়ে কাঁটা দেয় সদ্যযৌবনা কিশোরীর মতো।
গভীর রাতে রূপালী চাঁদটারে ফালিফিলি করে
চলে যায় অজানা মাঝি স্বচ্ছ জলে খেলে মৃদু ঢেউ
কেউ চুপিচুপি যায়, গান ধরে কেউ হেরে গলায়
জলেভাসা শ্যাওলা-কচুরির মত ভেসে যায় কেউ।
কে আসে কে যায় কে ডুবে গলায় কলসি বেঁধে
কোন নরনারী ফুর্তিতে ভাসে কে ডুবে কান্নায়
সব কথা লিখে রেখে পলিজমা পেটে তার
একমুখী দুঃখী নদী নীরবে নিরবধি শুধু বয়ে যায়।

মায়া

ঝরে পড়া ফুল
ফেলে আসা ভুল
মায়াকাড়া নদীর দু’কুল আজো পিছু টানে
মরে যাওয়া মায়া
সরে যাওয়া কায়া
তোমার সন্মোহনী ছায়া কষ্ট কিছু আনে।

চলে যাওয়া দিন
ভেঙে যাওয়া বীণ
বড়ই কঠিন অকারণে ভুলে থাকা
প্রেমান্ধ দু’চোখ
একান্ত যে শোক
সব আমারই হোক বুকে তুলে রাখা।

ছেড়ে আসা পথ
স্মৃতির অশ্বত্থ
কথা কত-শত বিষাদে ভরে মন
দূরে যে গেছে চলে
এসেছিল যাবে বলে
কেন বাঁধি মায়াজালে তারে অনুক্ষণ!

অভিমানী ভাটির বিছানায়

তুমি নেই, সময় যেন কৃষ্ণবিবর
স্বপ্নরা সব সদলে নিয়েছে ছুটি
ঘুমহীন চোখ তোমার ছবি আঁকে
বুক জুড়ে চলে স্মৃতির লুটোপুটি।

এই শহরের প্রতি ধূলিকনা জানে
তুমি মানে সুখ, চলে গেলেই সব আঁধার
অলিগলি রাজপথ হয়ে আছে আজো
অজস্র যুগল নিঃশ্বাসে একাকার।

স্বপ্নের সাম্পান উজানে উড়ে যায়
তোমাকে নিয়ে অদ্ভুত অজানায়
মৃতস্বপ্ন ভালোবেসে বসে আছি একা
অভিমানী ভাটির বিছানায়।

শেযার করুন...




© All rights reserved
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
You cannot copy content of this page