রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:৫১ পূর্বাহ্ন

মাহবুবা করিমের পদাবলি

মাহবুবা করিমের পদাবলি

agooan, poem, webmag, kobita, love poem, premer kobita, golap amin, kabita, আগুয়ান, ওয়েবম্যাগ, গোলাপ আমিন, কবিতা, প্রেমের কবিতা, হাওড়, মিনি ককস্বাজার, নিকলি, কিশোরগঞ্জ, বালিখোলা, ওয়েবম্যাগ,;

শূন্যতা



বাবার প্যান্টের পকেটে থাকতো একটি শূন্যতার চুইঙ্গাম;

আমাকে,
আপেল
আঙুর
বেদানা কিনে দিয়ে
পাত থেকে বারবার মাছ তুলে দিয়ে
বাবা এক জীবন চিবিয়েছেন চুইঙ্গাম;

এখন,
বাবার কবরে মুখ রেখে চিৎকার করে বলি,
গত একশতক ধরে, আমিও তোমার ফেলে যাওয়া চুইঙ্গাম চিবুই বাবা।

শুনতে পাচ্ছো?

শশীকাব্য



যদি বলি– ভালোবাসি না, জিভ খসে যাবে
যদি বলি –তুমিহীনা বাঁচা যায়, সশব্দে ভেঙে পড়বে আকাশ।


তোমাকে চাই জীবন ও যৌবনে
তোমাকেই চাই জান্নাতী জংশনে।


এই জ্বরের জীবনে – তুমি
একটুকরো শীতল জলপট্টি।

প্রেমিকা


যখন-ই উৎসব
হৈ হৈ রৈ রৈ
আতশবাজি
প্রেমিকাকে আচ্ছামত শরীরে জড়িয়ে ডুমরু বাজাতো ছেলেটি;

ছেলেটির,
একটি-ই প্রেমিকা ;
কান্নায়
শোকে
বুকে পাথর রেখে
নিজেকেই চিপরে ,ব্যর্থতার জল খসিয়ে শুকোতে দিত রোদে

ঈশ্বরজন্মা পুরুষ



যেহেতু পুরুষ ঈশ্বরজন্মা
আর নারীর উরুতে বাঁধা ধৈর্যের তাবিজ
তবে কেন পুরুষের অনুমতি ছাড়াই নারী শরীরে ঢুকে পড়ে
জ্বর
ক্যান্সার
ক্লান্তি
ও ঘুম?

তবে কেন
পুরুষের অনুমতি ছাড়াই আজরাইল বসে পড়ে নারীর বুকের উপর?

এবং এগুলো অপ্রকাশিত

পাখি হও



—আমাকে টেনে ঘর থেকে বাইরে নিয়ে আসে, কে?

—ঢোল কলমি

—আমার তন্দ্রাজাল ভাঙে কে, শুনি?

—ফণীমনসা

—আমাকে শুদ্ধ করে কে?

—ভাটফুল

—আমাকে অনন্ত অান্ধার রাত্তিরে রোদের মত আলো দেয় কে?

—শিউলিফুল

—তবে যে হেমিলিয়ানের গল্পের মত তুমি বল সব সব সব ফুল নদী ঋতু ধনেখেত নিয়ে যাচ্ছে কেউ যেতে যেতে শপাং করে কাঁদা ছিটিয়ে পৃথিবী অসুন্দর করে যাচ্ছে,

—যাচ্ছেইতো,

—কিন্তু,হাসনাহেনার পরাগ গাঁয় মেখে
ভোলতার মতো ভো ভো করে, পাশেই আছে সব,
মধুভরা ফুলের নগরী
তমালবন
রঙ্গন
এই দেশ ছেড়ে
তোমাকে আমাকে
আমাদের অনন্ত সবুজ শৈশব ছেড়ে
কোথায় যাবে ওরা?

—গোটা পৃথিবীটাই শুটকির মত চুপসে যাচ্ছে,দেখছো না? নোনা ইলিশের মতো নুনে ভরে উঠছে মানুষের স্বপ্ন।
মুগ ডাল থেকে উড়ে যাচ্ছে স্বাদ
চিনিগুড়া চাল থেকে বাস্পিয় হয়ে যাচ্ছে বাসনা
সমস্ত ঔষধি গাছ উড়ে উড়ে যাচ্ছে
শুধু মহামারি, হিংসা-বিদ্বেষ ।

—তুমি মনে করো—
কিচ্ছু উড়ে যায়নি,মিলিয়ে যায়নি
হাত ছড়িয়ে দিলে মুঠোমুঠো ঘাসফুল
হাতছড়িয়ে দিলে নারগিস, টিউলিপ, অর্কিড
হাত ছড়িয়ে দিলেই আস্ত বাগান; বলো—
আমাকে এখনো কেন ডাকে বিলের ধারের টুকটুকে বউ শাপলা..
নীল নীল আসমান
রংধনু?
কী বলো এখনো দেখছো না …?
হাত ছড়িয়ে দিচ্ছো না তাই ওমন মনে হচ্ছে তোমার…
দাঁড়াও—
আমি তোমার হাত পাখির মত প্রসারিত করে দিচ্ছি
নিঃশ্বাস নাও, হ্যাঁ জোড়ে।
এইবার বলো কী নেই
কী উড়ে যাচ্ছে….
কী ধূলিসাৎ হয়ে যাচ্ছে?

—কিচ্ছু না। সব আছে,
সব সব সব কিছু
সব-ই আছে।
আমার ফুসফুস ভরে উঠছে আম্রমুকুলের সৌরভে
আমার কানে ভেসে আসছে,সুর
তুমি ঠিক বলছ চারিদিকে ফুল,
ফুলের বাগান
কিচ্ছুটা পাল্টে যায়নি
রোগমুক্ত হচ্ছে পৃথিবী
অশুভ মানুষগুলোর অন্তর ফুলের মত ফুঁটে উঠছে।

শেযার করুন...




© All rights reserved
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
You cannot copy content of this page