মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১:৩৫ অপরাহ্ন

মাহবুবা করিমের পদাবলি

মাহবুবা করিমের পদাবলি

প্রেমের কবিতা মাহবুবা করিম আগুয়ান mahbuba karim love poem agooan webmag

মধ্যবর্তী সংসার


এতো বছর পর এসে, মনে হচ্ছে
তুমি অন্ধ;
আমি অন্ধ;
আমি সূর্যকে বলছি বেগুনি
তুমি আমাকে বলছো সূর্য সবুজ

আমরা কেউই জানি না সবুজ বা বেগুনি দেখতে কেমন
কিন্ত যে বা যারা ভালোবেসেছে বাসে বাসবে সেই জানে সূর্যের রং ও তার প্রেমিকার রোদের মোলায়েম উত্তাপ।

শুধু
তুমি -আমি বিপরীত আকাশে শূন্যতার বৃত্ত খুঁজি
অথচ বৃত্ত —ত্রিভুজ কী চতুর্ভূজ, তাও জানি না

প্যাঁচাল

জিব্রাইল সংসার দিতে চাইলে ; আমি তাকে ফিরিয়ে দিয়ে,

বলেছিলাম— শুধুমাত্র কলম হলে পৃথিবীর গায়ে, গাছের বাকলে, ও

পাতায় লিখে দিতে পারি সুন্দর এর ব্যখ্যা।

আর একটি তুলি দিলে,

আকাশ আরোও একটু গাঢ় নীল করে দিতে পারি।

হেম উপাখ্যান


—রাগলে মাথায় আগুন ধরে যায়। সেবার তোকে ছেড়ে ছুড়ে আপনমনে পালিয়ে চলে যেতে চেয়েছিলাম হিমালয় পাহাড়ে;

—মুখটিপে হাসিখানা লুকিয়ে বললি, যেতে;

—তোর মায়ার আঙুললতা পা আড়ষ্ট করে দিলো, ভেজা ভেজা কালো দু’টো চোখ আমার সরুমতন খালবিল রক্তনালীতে রক্তপ্রবাহে শীতল বরফের সমুদ্র ঢেলে দিলো ওরা অবাধ্য প্রলয়ের মতো মায়ার বিস্তার ঘটাতে লাগলো। আর অদৃশ্য একটা মানব আমার ভেতর থেকে ফিসফিসিয়ে বলছিলো যাসনে!
সেইদিন বুঝলাম—
তোর তুমুল সূত্রপাত আমার বক্ষবন্দরে। তুই কোন নারী নস প্রতীমা, তুই মানসী, অপরূপা জাদুময়ী। কাছে কোথাও বৃষ্টি বইলে যেমন শীতল হয় অন্তর। সেই সবটুকু শীতল হিম ছোঁয়া তুই, তুই জননীর আরেক রূপ, হেম…।
আমাদের গাঁয়ের শতবছরের বুড়ো বট গাছের মতো তোর কাছে এলেই আমার মন বড় শান্ত হয়ে যায়।

—তুই হেসে বললি,আমি বুঝি বুড়ি হয়ে গেছি?

—না না হতেই পারিস না। তুই জানিস তুই কত সুন্দর লাবন্যময় চাঁদের প্রচ্ছায়া?
দ্যাখ পাগলী, আমার মতো করে দ্যাখ।
তোর গা থেকে উষ্ণতার রাধাচূড়া উড়ে যাচ্ছে,
তোর হাসি থেকে খলখলিয়ে নদী বয়ে যাচ্ছে,
তোর পায়ের নখ থেকে কুসুমি রোদ গিয়ে পড়ছে ঘাসে আর ঘাসগুলো চকচক করছে যেন সোনা ফলেছে।তোর পা ঘাসের শিশির ছুঁলে ভীষণ লজ্জায় ওরা নত হয়ে আসে;
তুই খেয়াল করলেই দেখতে পাবি।তুই— তুই নস তুই দেবলীনা তুই মোনালিসার গোপন রহস্য, হেম।

—ধুর তাই কী হয় নাকি?তোমার সব আদিখ্যেতা, ন্যাকামী। বয়সের ভীমরতি আর কী,

—ন্যকামি নয়, বয়সের ভীমরতিও নয় । হয় ওরম , তুই জানিস না কিছু। তোর চুল বেয়ে নেমে পড়ে বান্দরবানের সেই গোপন ঝর্ণা যার খবর এখনো কেউ পায়নি। সেই ঝর্ণার নাম আমি তোর নাম করে দিলাম।আজ থেকে সেই ঝর্ণার সবটুকু জল তোর, সেই ঝর্ণা একেবেকে যে গ্রাম ছু্ঁয়ে যায় প্রতিদন —সে গ্রাম তোর, যে নদীকে স্পর্শ করে সে নদী তোর, সেই বৃক্ষ মন্দির মসজিদ সব তোর। তোর তোর তোর।
তোর নামে গোটা বাংলাদেশ লিখে দিতে পারি, হেম

—ওসব,আমি বুঝি না বাপু, আমি বুঝি কূয়ো থেকে জল এনে তোমার পায়ে ঢেলে দিলে, তুমি গা ধুয়ে নেয়ে দু’টো ভাত খেয়ে শীতল পাটিতে শরীর এলিয়ে দাও, তাই আমার ধর্ম-কর্ম।
তোমার পায়ে নিজেকে উৎসর্গ করেই তুষ্টি লাভ করতে চাই…তুমি যে দেবতা,
তোমার পুজোআচ্ছাই আমার ধ্যান-জ্ঞান।

—দ্যাখ তুই কী বোকা মেয়ে মানুষ। তুই জানিসই না ঐ কূয়োর জলে তোর ছায়া জোছনার মত ঝলমল করে..চেয়ে দেখেছিস কখনো? আমি দেখছি দুড়মাড় একাকার করে তুই ঠোঁটে করে একরত্তি সুখ আনলি আমার সংসারে।
সেই গোয়ালঘর, যার ছিল তেত্রিশ ইঁদুরে খাওয়া ছিঁদ্র তাই জুড়ে জুড়ে কোনমতে ঘর বানিয়ে ছেড়েছিস…সংসার পেতেছিস খোঁয়াড়ে।
তুই ঈশ্বরী নয়তো কী?
তোকে আজীবন বুকের মাঝে বইবো না, কাকে বইবো হেম? আমি যে আমৃত্যু মাটিতে শুষে খাওয়া অব্দি তোকেই বইতে চাই…

এই কথা শুনে আচমকা তুই থমকে গেলি,
আকসম্াৎ বজর্পাতের মতো বৈদ্যুতিক জলকের মতো মৃদঙ্গ বাজতে বাজতে তা থৈ থৈ করে চিরবৃষ্টি নামতে আরম্ভ করলো আমার উঠোনে। তুই জানিস না তোর চোখ দরিয়ার মত টলমল টলমল করে উঠলো কেমন। পোড়ামুখী তুই জানিস না তোর সেই জল এই জড় শরীরে কেমন সঞ্জীবনী এনে দিলো। স্পর্শে স্পর্শে আমার সেই আজন্ম নিরবতা ভেঙে দিলো। আমার কণ্ঠে বাঁশেবাগানের কচি পাতার মতো ঝিরিঝিরি কেঁপে উচ্চারিত হলো ভালোবাসি….

তুই এমনি পেঁজা মেঘের ন্যায় সুন্দর,হেম।

এই সূর্যমূখী এইবার এইবার তুই সূর্যে মুখ রেখে দেখ তারচেয়ে প্রজ্জলিত কম নস বরং তারও বেশী জ্যোতিময় রূপ আছে তোর। ইচ্ছে করে তোর ভঙ্গুর চাঁদের ঝলক লেগে পুড়ি,পুড়ে পুড়ে ছারখার হতে হতে ভালবাসি তোকে।

  • অপ্রকাশিত (উৎসর্গ প্রেমিককে)

ভালোবাসা মন্দবাসা


যদি প্রেমিক না হন –
অভিশাপ দেই,
আপনার যৌবনে পোকা ধরুক,
খুব বাজে রকম পঁচে যাক আপনার অন্তর।

যদি প্রেমিক না হন?
তবে-এইসব ন্যাকামি ছাড়ুন।
অযথাই মনের ভেতর খাবি খাবেন না প্লিজ।
সাফ সাফ জানিয়ে দিন,
কেটে পড়ি।

কেটে পড়ি—
অজনাই থাক
কতটা বাজে রকম,
কতটা দুর্দান্তভাবে
কতটা আপোষহীন
কতটা বোকার মতো ভালোবাসি আপনাকে

বাবাকে মনে পড়ছে



ঘুমাবার পূর্বক্ষণে কপালে শিশির জমেছিলো,
বাবা বলেছিলো
তলাচ্ছি,

নবাবী লক্ষণ স্বর্গযাত্রার;

শরীরে নেমেছিল মাঘের শীত
বাবা, বলেছিলো
ঘুমোচ্ছি

ভাঙে না যে ঘুম,

ঘুমোতে ঘুমোতে গোলাপ জল
ঘুমোতে ঘুমোতে চোখে সুরমার ঢল
বাবা চুপিসারে বলেছিল,
পালাচ্ছি,

সেই শেষ দেখা ;

হে ঘুম তুমি সকাল হও
হে ঘুম বাবাকে ফিরিয়ে দাও।

শেযার করুন...




© All rights reserved
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
You cannot copy content of this page