রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭:১৬ অপরাহ্ন

মার্জিয়া জাহানের একগুচ্ছ কবিতা

মার্জিয়া জাহানের একগুচ্ছ কবিতা

agooan, agooan webmag, webmag, bangla webmag, poem, love poem, romantic poem, poem of love, marjia jahan, kobita, premer kobita, আগুয়ান, আগুয়ান ওয়েবম্যাগ, মার্জিয়া জাহান, কবি, কবিতা, প্রেমের কবিতা, ভালোবাসার কবিতা, রোমান্টিক কবিতা, আবেগের কবিতা, মজার কবিতা, প্রেম,

তুমি কি পড়বে আমার কবিতাটি

তুমি কি পড়বে আমার কবিতাটি!
বুঝতে চাইবে কি লিখেছি তাতে?
থাক, তুমি তো ওসব বুঝনা-
পড়েই কী লাভ!
সর্বদাই সৌন্দর্যের ঘোরে বিভোর থাকো
বাহ্যিক সৌন্দর্য!
অথচ হাতের নাগালে কতকিছু দাও ভাসিয়ে
বুঝতেই পারো না কী গভীর সৌন্দর্য তাতে!

ভাগ্যের নিখুঁত কারুকায

উদ্যমি মনের যাবতীয় উত্তাপ
শান্ত নিরব মলিন আজ!
জীবন-যুদ্ধে হেরে গিয়েও বেঁচে থাকা-
ভাগ্যের নিখুঁত কারুকায।

মৃদু গুঞ্জন

ওই যে হিমেল হাওয়ার তালে,
শান্ত নিরবধি জল বহে-
নীল সাদা গগনের প্রতিবিম্ব ফুটে
যেন প্রতিটি জলের কণায় মুক্তা ঝড়ে!
চিরচেনা কলরবের সেই মৃদু গুঞ্জন
সুদূর দিগন্তপানের গোধূলি বেলা মুগ্ধ ভীষণরকম।।

বিষন্ন আয়না

শহরের বিদঘুটে কালো ছায়ার খবরে-
কত নান্দনিকতা ঢাকা পরে যায় কত অভিশাপে!
এসবের খোঁজ কেউ রাখতে চায় না,
বিরস পৃথিবীতে শুধু বিষন্ন আয়না।

যদি তুমি চাও

যদি তুমি চাও-
দূষিত আবহাওয়ায় সুতীব্র সুঘ্রাণ মিশিয়ে দেবো।
যদি তুমি চাও-
অন্ধকার বাতায়নে জোৎস্নাধারা নামিয়ে দেবো।
যদি তুমি চাও-
রোমিও-জুলিয়েট এর গণ্ডি পার হবো।
যদি তুমি চাও- আমি বনলতা সেন হয়ে যাবো।

তোমার উপমা আমার রক্তাক্ত হৃদয়ে গেঁথে রাখবো।
তোমার বিভৎস ক্ষতের ভাঁজে ভাঁজে —
ফুলেল প্রেমময়ী হাসির ঝিলিক ফুটাবো।
তোমাকে ভেবে ভেবে ক্লান্ত শ্রান্ত হবো।
কেউ চোখ তুলে তাকালে লণ্ডভণ্ড করে ফেলবো।
তোমার একাকী অভিযানের আমৃত্যু যোদ্ধা হবো।
ছিন্নভিন্ন হয়ে ভেঙ্গে যাওয়া নির্বিঘ্ন স্বপ্ন —
নান্দনিক কারুকার্যে বিশুদ্ধতায় ফিরিয়ে আনবো।
যদি তুমি চাও যৎসামান্য; যেনে রেখো-
এ আমি শুধু তুমার–চিরদিনের জন্য।।

কেউ না জানুক

আত্মাকে বিনষ্ট করা যেন নিছক বোকামি।
গর্জে উঠো, মার্জনা করো,
বলে দাও-
এইতো বেশ আছি–আমার মাঝে আমি।
কে আছে আর– আমাকে কাঁদাবার?
এত সাহস কোথায় পাবে– সাগর শুকাবার?
কে আছে আর– আমাকে হারাবার?
এত ত্যাগী কে সে– যাযাবর বার বার?
আমার আমি- সর্বদাই বিজয়ী।
কেউ না জানুক– জানে অন্তর্জামী।


দ্বিধাকাব্য – ১

আমি দিলাম কাব্য নাম, তুমিও দিলে দ্বিধা!
অবিশ্বাস্য বিশ্বাসের অকল্পনীয় ভাবনায়
দ্বিধা কাব্যের মিতা!
কথায় আছেনা?
চাহিদার নাই শেষ থেকে যায় আরও বেশ!
এবার মনে প্রশ্ন জাগে অযথা–
আমি যদি ধূসর দেই! তবে তুমি কী দিবে?
ধূসরীতা! নাকি প্রিয়তা?
নাকি বোকা! নাকি অভাগা?
তুমিই জানো দ্বিধার মানে, কী বুঝিয়েছো এই নামে
বুঝতে চাইনা মানে টানে, বুঝতে গেলে যে সংশয়ে ঘিরে।
খুব বিচক্ষণ বুদ্ধি তোমার, তাইতো নামেও বাহার!
জটিলতায় নাই আমি, শুধু জানি বন্ধুত্ব প্রগাঢ়।


দ্বিধাকাব্য – ২

কাব্যের আজ অসুখ ভীষণ
দ্বিধার চোখের ঘুম বারণ।
রৌদ্রময় কাব্য আজ মর্মরতার ধ্বনি শুনে
দ্বিধা বুঝি তাই বেপরোয়ার বেশে!
কাব্য আজ যুদ্ধ-জয়ের অভিযানে-
অবিশ্রান্ত পৃথিবীর পথে।
সাত-সমুদ্র তেরো নদি পার হয়ে যদিও
দেখার সাধ জাগে-
তবুও এক পলক না দেখা যাবে!
এমন জায়গায় আছে যেথায়-
“প্রবেশ নিষেধ” কারফিউ জারি!
এ যেন পাহাড় সম আহাজারি।
কাব্য তুমি ফিরে এসো তাড়াতাড়ি
না হয় যেন কোন বাড়াবাড়ি!
বিপ্লবীতেই মানায় তোমায়,
নয় অন্ধকার নিরবতায়।
তুমি বীর; হার না মানা সৈনিক,
তুমি বিশুদ্ধতার প্রতীক।।

শেযার করুন...




© All rights reserved
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
You cannot copy content of this page