শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন

রহমান ফাহমিদা’র একগুচ্ছ কবিতা

রহমান ফাহমিদা’র একগুচ্ছ কবিতা

বাংলা কবিতা,কবিতা,বাংলা কবিতা আবৃত্তি,কবিতা আবৃত্তি,কবিতা জেমস,দশটি কবিতা,কবি ও কবিতা,কবিতা poem,বড়দের কবিতা,বিখ্যাত কবিতা,প্রেমের কবিতা,নজরুলের কবিতা,আসমাপ্ত কবিতা,আবৃত্তির কবিতা,চল চল বাংলা কবিতা,ছোটদের ছড়া কবিতা,ছোটদের ছড়া ও কবিতা,বাংলা কবিতা প্রেমের,বাংলা প্রেমের কবিতা,বাংলার কার্টুন কবিতা,বড়দের কবিতা আবৃত্তি,কার্টুন কবিতা ভান্ডার,নজরুলের কবিতা আবৃত্তি,প্রেমের কবিতা আবৃত্তি,বিদ্রোহী কবিতা আবৃত্তি,চল চল চল বাংলা কার্টুন কবিতা,বাংলা প্রেমের কবিতা আবৃত্তি,কবিতা তুমি স্বপ্নচারিনী হয়ে

বন্ধু, আসিস তোরা আমার জানাযায়


টিকিট পেয়ে গেছি আমি অন্তকালের টিকিট!
সব কিছু বাঁধা হয়ে গেছে, এবার যাবার পালা
ভুল করে রেখে গিয়েছি কি কিছু!
হিসাবটা তো মিলিয়ে নিয়েছি বহুবার
তারপরেও কেন মনে হচ্ছে, কিছু ফেলে গেলাম!
আমি চলে যাবার পর তোরা একটু খুঁজে দেখিস তো ?
যদি কিছু পেয়ে যাস, তবে আমার ঠিকানায় পাঠিয়ে দিস।
যদিও থাকবে আমার একটি ঠিকানা
ডাকপিয়ন তো পৌঁছেতে পারবে না সেখানে,
দেখ! আমি কি বোকা, ভুল তো হতেই পারে আমার!
সবার মত আমিও তো মানুষ।
আমাকে শেষ বিদায় জানাতে আসবিনা তোরা জানাযায়?
শুভ্র সাদা একফালি কাপড়ে আমি তৈরি হ’ব,
আর কোনো রঙ আমাকে ছুঁবে না
আর কোনো দুঃখ, কষ্ট, বেদনা আমাকে বাঁধবে না।
আমি থাকবো তখন সবার ঊর্ধ্বে!
কোনো দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলবি না, ফেলবি না কোনো চোখের পানি,
সহ্য করতে পারবো না! তা আমি জানি।
যাবার বেলায় অন্তত আমাকে তোরা চিন্তামুক্ত থাকতে দিস,
পিছু ডাকিস না তোদের এই ভালোবাসায়
লাশ নিয়ে আমার খাটিয়া যে বহু দূর চলে যায়।
ভঙ্গ হবে, সাঙ্গ হবে এই জীবনের মঞ্চ নাটক
বন্ধ হয়ে যাবে সারাজীবনের জন্য পৃথিবীর এই ফটক।
রেখে গেলাম সব আন্তরিকতা আর গভীর ভালোবাসায়,
ক্ষমা করিস বন্ধুরা এই নিমন্ত্রণে তোদের সঙ্গী করতে পারলাম না এবার।
আমি যখন থাকবোনা আর
উঠবে না টেবিলে আমার কথার ঝড়,
আর হাসবোনা তেমন উজ্জল করতে তোদের আসর।
আমি না থেকেও থাকবো তোদের আসরে,
দেখতে পাবি না, থাকবো চুপিসারে!
রাখিস আমাকে তোদের মনের গভীরে।
ভুলে যাসনে আমি মরে গেলে!
ক্ষমা করে দিস তোরা সবাই আমায়,
শরীক হবি আশা করি আমার জানাযায়।

জীবন তো কাব্য নয়


সমুদ্র হতে মহাসমুদ্র পাড় হয়ে অথবা দেশ থেকে দেশান্তরে, তেপান্তরের মাঠ পেরিয়ে যাব তোমাকে খুঁজতে! এরকম মিথ্যে কথার মালা গাঁথবোনা তোমাকে নিয়ে।
এমন করেও শান্তনা দেব না তোমাকে! আমি তোমার জন্য আকাশের ঐ চাঁদ এনে দিয়ে তোমার কপালে টিপ পড়াবো। একশ’ আটটি নীলপদ্ম তোমার হাতে তুলে দেবো অথবা তোমার জন্য জীবন বিলিয়ে দিতে পারব!
হয়তোবা এ কথা বলার পর বেঁচে থাকব! জীবন মরণ তো সৃষ্টিকর্তার হাতে, আমি তো জানিনা কখন তা সাঙ্গ হবে! নাহ, আমি তোমার কাছে বিশ্বাসঘাতক মীরজাফর হতে চাই না। তাই মিথ্যে কোনো শান্তনা দেব না তোমাকে।
তবে হ্যাঁ, তোমার জন্যে আমার ভালোবাসা আছে বুকের মধ্যে। তুমি কাছে আসলে বাঁচার ইচ্ছে জাগে শত বছর। তোমাকে জড়িয়ে ধরে রাখতে ইচ্ছে হয় বুকের ভেতর। দু’চোখ ভরে দেখতে ইচ্ছে হয় তোমাকে।
এগুলো আমার চাওয়াপাওয়ার অভিলাষ! কিন্তু তোমাকে বলা যাবে না, বল্লে তা হয়ে যাবে কথার কথা! আমার সমস্ত সত্ত্বাকে তুমি অনুভবে বুঝবে, হৃদয় নিংড়ে তার স্বাদ নিবে, এ শুধু আমার চাওয়া।
কোনো মিথ্যে কথার অহমিকায় আমাদের ভালোবাসায় খাদ থেকে যাক! বিশ্বাস কর! তা আমি মানতে পারবো না।
জীবনটা কাব্য নয়! কল্পনাও নয়, বাস্তব। তাই আমি চাই বাস্তবতার মুখোমুখি তুমিও দাঁড়াও। বাস্তবতার আলোকে আলোকিত হোক আমাদের ভালোবাসা।

প্রতিবিম্ব


আরশিতে যখন চোখ রাখি
তখন ভাবি, কে আমি?
যে কিনা দাঁড়াতে চেয়েছিল
সত্যের মুখোমুখি।
হিসেব মিলাতে গিয়ে
সবকিছু হল ফাঁকি!
পাঁচজনে পাঁচ রকম কথা বলে
অনেকে এড়িয়ে চলে,
ছলেবলে কৌশলে।
পাইনাকো সঠিক কারো
কোনো জবাব!
মিথ্যেগুলো হুমড়ি খেয়ে
গায়ে পড়ার ভাব।

প্রাকৃতিক আহবান


বৃষ্টি তুমি ধুয়েমুছে দাও পৃথিবীর
সমস্ত পঙ্কিলতাকে।
সূর্য তুমি তোমার আলোয় ধ্বংস করে দাও
মানুষের অহমিকাকে।
চাঁদ তুমি তোমার স্নিগ্ধ আলোয় আলকিত কর
মানুষের সততাকে।
ভোরের শিশির তুমি একটু হলেও মানবতার মনে
ধারণ কর বিশ্বাসটাকে।
ঝড় তুমি ঝড়ের বেগে উড়িয়ে নিয়ে যাও
মিথ্যা আর ভন্ডামীকে।
পাহাড় তুমি প্রতিধ্বনিতে বুঝিয়ে দাও মানবতার
দুঃখ কষ্টগুলোকে।
সাগর তুমি বুকে ধারণ কর মানুষের
সকল ভালোবাসাকে।
তোমরা সবাই মিলে পবিত্র সুন্দর করে দাও মানুষের
কলুষিত এই পৃথিবীটাকে।

চিরন্তন সত্য


যে কোনোভাবেই বাঁচতে চাই সবাই
কেউ ভাবি না কখন কিভাবে যাব মরে।
বাঁচার জন্য নানান রকম অন্যায় করি
মরে গেলে সবকিছু দুনিয়াতে থাকবে পড়ে।

ভুলে যাও তোমার অস্তিত্ব আর প্রাচুর্যের অহমিকা
এসেছ দুনিয়াতে একা, যাবার বেলায়ও থাকবে না কেউ।
সবকিছুর জবাবদিহিতা করতে হবে তাঁর কাছে
কেউ তো তখন আসবে না তোমার কাছে এগিয়ে।

নিজের পাপের অপরাধের কথা জানতে পারবে নিজেই
পাবে না তো ক্ষমা, চলবে না কোনো সুপারিশ।
বিচার হবে না কোনো কাঠগড়ায় কোনো হাকিমের সামনে
হাশরের ময়দানে হবে বিচার সৃষ্টিকর্তার নিকটে।

শেযার করুন...




© All rights reserved
Design & Developed BY ThemesBazar.Com