রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭:০৬ পূর্বাহ্ন

শাহিন চাষী’র পদাবলি

শাহিন চাষী’র পদাবলি

Poem, love poem. romantic, webmag, littlemag, web magazine, agooan, webmag, bangla poem, bengali poem, shahin chasi, শাহিন চাষী’র পদাবলি,

ভেতরের গল্প

পথ চলতে প্রতিদিন
আমার চারপাশেই অযুত-নিযুত মানুষের ভিড়
দৃষ্টিহীন, ভাবনাহীন, বাকহীন, গতিহীন ..

আকাশে ভয়ঙ্কর মেঘ,
কেউটের মতো ফণা মেলছে নিচ্ছদ্র অন্ধকার;
বাতাসে প্রবল হতাশার উজ্জল ব্যঞ্জনা
দৃষ্টির রেখার ঢেউ উপমায় শঙ্কা, দ্বিধা, ভয়..

রোদের বুকে আগুন
সবুজের শরীর ঘিরেই রক্ত শূন্য পোয়াতির মুখ,
জল ও জোছনায় পালক পোড়ার ঘ্রাণ,
মাটিতে মাথা তোলে গোরস্থান, শ্মশান, মরু..

চারিদিক ভাঙানের ধ্বনি,
তবুও সকলে পাহাড়ের ব্রতে নির্বিকার-উদাস !
আমার জানালায় সংশয়ের ঘনঘোর
বুকের গহীন আকাশব্যাপ্ত সন্দেহ, বিস্ময়…

সহসা কাছে গিয়ে দেখি—
স্বার্থের বাণিজ্যিক হাটে কেউবা বেচেছে মাথা
কারো হাত পা কামড়ে খেয়েছে শুয়োর !

ক্রান্তিকালের কথা

কালের বুকে থৈথৈ রাত-
ফেনায়িত অন্ধকারের এক অদ্ভুত বৈপ্লবিক গর্জন,
চোখের উপকুল জুড়ে স্বপ্নের ফসিল।

বারবার আঁতকে উঠি,
রক্তের সমুদ্রে হাড়ের প্রবাল ঘিরে হতাশার শৈবাল;
নিভৃতে যুদ্ধংদেহী শিম্পাঞ্জী, হনুমান….
ঘড়ির কাঁটা ধরে বিধিহীন অসহায় মানব!

কেবলই দেখতে পাই
বুকের গহীন ভেতর ভয়ানক ব্যথার উদ্ধত ডুবোচর,
মৃত্যুপুরীর দিকে ধীরলয়ে শরণার্থী জীবন!

বিস্ময়ের প্রাবল্য মনে,
ভুতুড়ে পানশালায় আশ্চর্য ভাবনাহীন উদাস ঈশ^র,
সময়ের সমতলে কেবলই দৃশ্যমান
কান্নার জলধারায় সীমাহীন শূন্যতার ঢেউ।

চারিদিক ভাঙনের ধ্বনি-
দিনদিন কঙ্কালসার কিশোরী স্বভাবের গাঢ় সবুজ,
এসো পাঠ করি নিজেই নিজের পরিচিতি।

কোন একজনকে

যদি মন চায়
ফুলকে এড়িয়ে যাও একদম অবলীলায় ,
অপবাদের কাঁটায় কাঁটাও বিক্ষত হয়।

প্রবল ইচ্ছা ছিলো
মুক্ত আনন্দে উড়েই যাবো একদিন
দূর থেকে দূরে, নীল থেকে নীলে..
যেখানে আগুন নেই, মেঘ নেই, ঝড় নেই;
অথচ ডানার শূন্যতায়
এক সমুদ্র ব্যখা নাচে বুকের মধ্যরেখায়।

এমন কোন কথা নেই:
হাত বাড়ালেই মুঠোর মধ্যে কারুজ চাঁদ;
মাটির স্বজন, ধুলোর কণা জানে
অশ্রুর দীর্ঘশাস ও ঘামের ক্ষতের মানে।

অজুহাত ভুলে যাও
কদর্যের ছায়া নিয়ে মিথ্যাও শৈল্পিক হয়,
কিন্তু অভিনয় সকলের জন্য নয়।

ছায়াছবি

আগুনের তোপধ্বনি
মৃত্তিকার বুকে কেউটে-ফণায় দুর্বিনীত রক্ত-নদী,
পাগড়ি-পৈতের মুখোমুখি দাঙ্গার কসরত!

কালের ক্যানভাসে ছবিময়:
মন্দির অভিমুখে ধাবমান বল্লম, তরবারী, তীর..
মিনারে-মিনারে হাতুড়ি-শাবলের উগ্র লাল চোখ,
বিস্মিত আল্লাহ, বিমর্ষ ভগবান
এখানে-সেখানে ক্ষত-বিক্ষত মুর্খদের লাশ!

সারাক্ষণ স্পষ্ট দৃশ্যমান
চোখে-চোখে জ¦লে রুদ্র, রুক্ষ, ভয়ানক হিংস্রতা,
মুখে-মুখে কেবল বিষাক্ত বাষ্পের উলঙ্গ বর্বরতা,
একদিকে শ্মশান, অন্যদিকে গোরস্থান
গেরুয়া, ক্রুশে আশ্চর্য শঙ্কায় উৎকন্ঠার ধ্বনি!

জানোয়ার ব্রতে আগুন ,
বিলুপ্তির তীরে আমি ভাবনাহীন, খেয়ালী নিরো;
দিগন্ত রেখায় ধর্মভস্মের ধোঁয়াটে কুণ্ডলী।

তুমি যদি জোনাকী হতে

অন্ধকারের নীরবতা ভেঙে
দ্বিপ্রহর রাতে বিজন ঘরে হঠাৎ এক জোনাকি,
ব্যস্ত পাখায় তার অপূর্ব শৈল্পিক চঞ্চলতা।

এ কোণ, সে কোণ ঘুরে
অবশেষে এলো এই ব্যথা কাতর বুকের উপর,
অত:পর এক অকৃত্রিম মায়ায়
নি:শ^ব্দে ছুঁয়ে দিলো কপাল, চোখ ও ঠোট।

তারপর তারার মতো
মিটিমিটি আলোর মৌনমুখর অরূপ মাদকতা,
আমি মুগ্ধতায় বিহবল-নির্বাক,
চোখের পাতায় অযুত দৃশ্য সবাক চলচ্চিত্র।

আজকাল নিয়মিত
জোনাকি আসে কখনো সাঁঝে কখোনো রাতে;
মন শুধু বলে- তুমি যদি জোনাকি হতে!

অন্তর্দর্শন

চোখের ব্যাপ্ত পাতায়
নিয়মের কাগজ পোড়ানো গভীর কালো ধোঁয়া,
ঘাম ভেজা নাগরিক ঠোঁটে চওড়া হাসি।

মমতার অক্ষরগুলো
গোপনে-গোপনে সাম্য খাদক অজগর,কুমীর…
অনাগত কালের সমতল ছুয়ে-
ঘন অন্ধকার আবৃত এক বিভিষীকার ব-দ্বীপ,
নগ্ন বৈষম্যের ঘুমহীন ভয়ঙ্কর কাঁটাবন।

আকাশে ভাসমান—
মুমুর্ষু ঘাস ও পাখির ব্যথাভরা প্রবল দীর্ঘশ^াস,
সতেজ প্রাণের সকরুণ ধ্বনি,
পচা মাংসের অসহ্য উৎকট-ঝাঁঝালো দুর্গন্ধ,
অমিত স্বপ্ন-সম্ভাবনার বিকৃত ফসিল।

ছায়ায় শরীরে শরীর,
অধিকারের দাবিতে পথে বিক্ষুব্ধ মানুষের ঢল,
এখানে-সেখানে লাশ ছুঁয়ে লাশ,
ক্ষুরধার স্রোতে ধাবমান উন্মাদ রক্ত নদী।

স্পষ্টই দেখছি আজ:
উসখুস আগুনের মুখে নিয়মের দলিত দলিল,
আমজনতা মুক্ত-স্বাধীন শালিক, শঙ্খচিল….

ছায়ালিপি

আকাশের কার্ণিশে ঝুলন্ত চাঁদ
মনের গহীন ভেতর
শঙ্কা-ভয়ের একটানা দীর্ঘ উলুধ্বনি।

যেখানেই যাই
সদা নির্ঘুম, উদগ্রীব আমার চোখ:
কারো পায়ে পিষ্ট না হোক
ধুলোর আঘাতে আহত না হোক চাঁদ।

অথচ দেখি
আমার বিপ্রতীপ সদা সতর্ক চাঁদ
নি:শ্বাসে কুয়াশার ধুপছায়া;
অভিসারে অপেক্ষমান অগণিত কীট।

ব্যর্থতার করাত কলে
অবিশ্রাম টুকরো-টুকরো হৃদয় ,
ঘণীভূত অশ্রুর সম্মিলনে
আহত চোখের মাঠে ব্যখার হিমালয়।

দীর্ঘশ্বাসের ঝড়
নীরবে ভেঙে যায় বুকের পাঁজর,
চাঁদের গায়ে ক্রমশ উজ্জল
বহুধা নিন্দার রঙিন ফেস্টুন ব্যানার।

আকাশে ঝুলন্ত চাঁদ
দৃষ্টির দ্রাঘিমায় চির আরাধ্য মুখ
অনুভবে সরীসৃপ পরাজয়ের অসুখ।

একটি প্রেম কাহিনী

ভোরের উন্মেষে
মাথার ভেতরে মৃতুর উপাখ্যান-অবিরত
পথভোলা এক জোনাকির মতো।

কী সরল মায়ায়
কী মায়াময় বিশ্বাসে
তোমাকে ভালোবাসি অপূর্ব-অরূপ নেশায়,
তোমার নামেই কত শত গান
তোমার আস্কারায় কত কবিতা
কৃষ্ণপক্ষেও দ্বাদশীর চাঁদ
দূরন্ত-উচ্ছল-ডানপিটে, দূরের নীলিমায়।

অবশেষে একদিন
তোমার অবজ্ঞার বিষে
আমার জোনাকি হৃদয় স্থবির গাঢ় নীল!
ইতিহাস হলো স্বেচ্ছা নির্বাসন,
মমতা ও ঘৃণা হাত ধরে পাশাপাশি;
তখনো তোমার চোখে
পিপীলিকার সারি শিকারের দীর্ঘ মিছিল।

আমি দেখছি
আমার দুয়ারে গর্ভবতী আঁধারের নি:শ্বাস
চশমার ফাঁক দিয়ে তুমি পড়ছো
একটি মরণ কাহিনীর রহস্যময় উপন্যাস।

একান্ত নদী

আমার একটা নদী আছে
আমি তার উপল তীরে
উদাসীন খেয়ালে স্বপ্ন ছুঁয়ে পৃথিবী দেখি।

যখনই শূন্যতা
চোখের পাতায় ঢেউ মাতাল নদী,
সুরেলা কলরোলে
নিস্তেজ মনে উচ্ছল দখিনার উন্মাদ দোল,
অনুভব ঘিরে কবিতার লোকনৃত্য।

নদীটি সারাক্ষণ-
আমার বুকের ভেতর জেগে থাকে,
আমার চেতনা ছুঁয়ে বয়ে চলে,
তার অনুরক্ত অভিমানে
আমি হই শঙ্খচিল অথবা দুরন্ত মাছ।

এইবেলা, এখন
আমার আকাশে শোকের লিরিক,
আমার চোখে ব্যথা গলা অশ্রুর স্বরলিপি,
হৃদয় গহীনে রক্তের ধারা
দুবৃত্ত রোদের আগুনে মৃতপ্রায় নদী!

দেখবে আমার নদী ?
একমনে চেয়ে থাকো সুরমার স্বচ্ছ জলে।

শেযার করুন...




© All rights reserved
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
You cannot copy content of this page