রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:৪০ পূর্বাহ্ন

জামিল হাদীর একগুচ্ছ কবিতা

জামিল হাদীর একগুচ্ছ কবিতা

agooan web mag - আগুয়ান ওয়েবম্যাগ - জামিল হাদীর কবিতা
আগুয়ান ওয়েবম্যাগ - জামিল হাদীর কবিতা

“১” অথবা “শুন্য”

মুছে যাচ্ছে গাছেদের সাথে পাতাদের কথাগুলো,
শিশুরা যেমন মুছে মুছে লেখে বর্নমালার কথা।
এমনই তো হয় চেনা প্রকৃতির চিরচেনা হালখাতা!
আমরাই শুধু হিসাবে রাখি জেদ-পোষা ভুলগুলো!
মুছে যাচ্ছে এক এক করে পাতাদের কথাগুলো……

সরষে ফুলের কাঁপন দেখি একমনে চুপচাপ
তার সাথে নাচে বিনাশব্দে উত্তরের ঐ হাওয়া
জীবন মানেই বিরতি-বিহীন বাঁকবদলের ধাওয়া
আর খুব মাঝরাতে আগুন সেঁকে হাতে জমা উত্তাপ!
সরষে ফুলের কাঁপন দেখি চুপচাপ চুপচাপ…

অক্ষর দিয়ে বলতে গিয়েও সবটুকু বলা যায় না!
ভাগশেষ হয়ে পড়ে থাকে হয় “১” অথবা “শুন্য”
এটুকু পেয়েই ধরে নিতে হয় এ-যাত্রা সম্পূর্ন।
ঝরা পাতারা ঝরবেই- এটা নতুন পাতার দায় না..
অক্ষর দিয়ে বলতে গেলেও সবকথা বলা যায় না……

আমি বই হতে চেয়েছিলাম তুমি কবি

আমি খুবই নিতান্ত প্রেমিক।
অমর প্রেম, শাশ্বত ভালোবাসা..
এসব কথা শুনলে আমার খালি থার্মোমিটার খুঁজতে ইচ্ছে করে – জ্বর মাপার জন্যে!
আমি তো কবি না!
যে আমার উথাল-পাতাল.. অমর প্রেম হবে!

আমার ছিলো এক নিতান্ত প্রেমিকা – “তুমি”।
তোমাকেই চেয়েছিলাম তাই কায়মনে!
পাইনি! কি হলো তাতে!
আছি বেঁচে! কোনমতে!
কৃতজ্ঞতা! ভালো থেকো!

তবু কিছু ওঠাবসা তো থেকেই যায়।
বছর ঘুরে ঘুরে ঘড়ির কাঁটা করাত নিয়ে হাজির হয়।
কাটে ফালি ফালি করে।
মনের মাংসের কি আর সাইজ আছে কোনো?
ধুন্ধুমার… এলোপাথাড়ি কাটাকাটি চলে তাই!
আমি তো লিখতে পারিনা কবির মতন!
তাই হজম করি!

গড়পড়তা আর দশজনের মতই সাদামাটা প্রেম ছিল আমাদের!
আছরের ওয়াক্তের পর তোমার ছাদে ওঠা
পাশের ছাদে আমিও অপেক্ষায়!
সারা বিকেল ছাদ টহল দেয়া
তারপর
বিকেলের মায়ারোদ ঠোঁটে ঝুলিয়ে চিলেকোঠা দিয়ে
নেমে যেতে যেতে আড়চোখে তাকানোর দিনগুলো!
খারাপ ছিলনা খুব! তাই না!

বা মোড়ের ক্যাফেটেরিয়ায়
আগ পিছ করে টেবিলে বসতাম দুজন।
একসাথে এক টেবিলে নয়!
পরিচিত কোন চোখ যেন দেখে না ফেলে তাই!
অর্ডার হত এক কাপ চায়েরই!

অর্ধেক খেয়ে তুমি উঠে যেতে।
যেতে যেতে পরে পিছনে ফিরতে এক পলকের জন্যে!
দেখতে আমি চুমুক লাগিয়ে ফেলেছি ততক্ষনে বাকী অর্ধেকটায়!
এই তো!
একেবারে যে খুব সাদামাটা ছিলো আমাদের প্রেম তা কিন্তু না!
তাইনা বলো!

কীইবা এমন চেয়েছি।
একটা দুই রুমওয়ালা ঘর!
তার সাথে লাগোয়া চড়ুই পাখির বাসামার্কা বারান্দা।
খুব জোর যেখানে বসে সকাল বিকাল একটু চা খাওয়া যেতে পারে।

যে ঘরে সারাদিন সঙ্গ দেন “আইয়ুব বাচ্চু”
বিকেলে “অঞ্জন দত্ত”
রাতে ” শিরোনামহীন”
আর খুব মাঝরাতে জেগে থাকা হলে
জ্বলে ওঠেন “আল মাহমুদ”!
সাদামাটা প্রেমের সাদামাটা চাওয়া!

পেয়েছি কি এসব?
পাইনি!
তো!
কি যায় আসে!
আমি তো লেখক না!
তাই মর্মন্তুদ এসব যন্ত্রনাকে গ্রাহ্য করার সময় কই!

তবু কিছু ওঠাবসা থেকেই যায়!
কবি না হলেও মানুষ তো নাকি!
অতীত রেখে গেছো ভবিষ্যতের জঞ্জাল স্বপ্নের সাথে!
মানিয়ে নেয়া বর্তমানে তাই হাসিমুখে প্রায়দিনই মরি।

আমার হাসিমুখে থাকা মৃতদেহ সারা শরীরজুড়ে আবৃত্তি করে

” আমি বই হতে চেয়েছিলাম
আর তুমি কবি!
কেউই কিছু হতে পারিনি,
তাই বলতে গেলে এখন শিউরে উঠি – ” ভালোবাসি”!

গল্পজোড়া উপন্যাস

ছাদ পেরোলেই রোদ-বাগান
গল্প লেখার মন-উঠান!
সেই উঠানে আসন পেতে লিখছি গল্প শুন্যতার!

অগোছালো শব্দেরা,
করছে হিসাব চুলচেরা,
সব চরিত্র প্রমাণ চাইছে ঐতিহাসিক সত্যতার!


পর হয়েছে গল্পে যে,
মনের ভেতর আপন সে,
কিভাবে এই ছায়ার আঁধার তুলে আনি অক্ষরে!

কাঁপছে কলম, ভিজছে চোখ,
অসহ্য এই যোগ-বিয়োগ,
লিখতে গিয়ে বুকের ভেতর উঠছে শুধুই ধক্ করে!


দেয়ালঘড়ির দেয়ালটায়,
ফাটলটা খুব চোখ টাটায়!
সেই ফাটলও গল্প শুনতে হাজিরা দেয় আকস্মিক!

ভেঙে পড়ার ঠিক আগে
তারও শোনার সাধ জাগে!
গল্পে কি তার চরিত্রটা আলোর মতই অলৌকিক?


সবাই যদি সঠিক হয়
গল্প তবে গল্প নয়!
রাত পেরিয়ে গল্প তখন অসহায় এক ক্লান্ত ভোর

শেষ পৃষ্ঠার শব্দেরা…..
একেবারেই খাপছাড়া…
যে যার মত চাইছে ফেরত স্মৃতির যত দেনমোহর!


তবুও আমি লিখেই যাই
গল্পের মূলমন্ত্রটাই!
সব চরিত্র মিলেমিশে করুক গল্পে শব্দ-বাস!

জেনে গেছে রোদ-বাগান
সঙ্গে ক্লান্ত মন-উঠান
জীবন মানেই মলাটছেড়া, গল্পজোড়া উপন্যাস…

তুষারপাতের হাসি

সেবারও শীত পড়েছিলো খুব!
অনেকটা এবারের মতই!
জোরজবরদস্তি করে চাদর টা কিনে দিয়েছিলে।
বেশ কয়েকবার আস্তে আস্তে বলেছিলাম
-” চাদরে আমার শীত মানায় না!”

তুমি মনে হয় বুঝতেই পারোনি আবদারটা!
তাই আমিও আর ইতস্ততায় কিছু বলিনি!
কী দরকার!
ভুল বুঝে বসো যদি!

পরে টিউশনির টাকা জমানো মাটির ব্যাংক ভেঙে,
প্যারাশুট কাপড়ের দামী একটা জ্যাকেট কিনে দিয়েছিলে!
ওটা পরেই ঘুরি এখনো! বে-সাইজ হয়নি! ভালই সার্ভিস দিচ্ছে!

আজ এতদিন পর চাদরটা প্রথম গায়ে দিলাম!
ট্রাঙ্ক থেকে বের করে!
তাও প্রায় পনেরো বছর পর! প্রথমবার!

বন্ধু বান্ধবের কাছ থেকে পেয়েছি খবরটা!
বেশ নিরিবিলিতেই আছো নাকি তুমি দুই মাস যাবৎ!

রেয়ার ব্লাড গ্রুপ হওয়ায়
আর সময়মতো সে রক্ত না মেলায় তোমাকে নাকি…

এবারও শীত পড়েছে খুব!
অনেকটা সেবারের মতই!
চাদরটা গায়ে জড়িয়ে নিয়েছি তাই!
জোরজবরদস্তি করেনি কেউ!
স্বেচ্ছায়!

কি বলে কথা শুরু করি বলোতো তোমার সঙ্গে!
তোমার নিরিবিলিতে বসে!

যে যাই ভাবুক…
যে যাই মনে করুক…
ঠিকই একবার বলে আসবো হাসতে হাসতে, আস্তে আস্তে –
” জানো! চাদরে আমার শীত কিন্তু এখনো মানায় না”

বর্ষা দুপুর

লিখিনি কোথাও আমি মাড়িয়ে পেরিয়ে যাওয়া ঘাসেদের কথা!
অথচ অগনিত ঘাসফুলে ভরে আছে খাতা!
যে থাকে আড়ালে তাকে পাশ কেটে চলে গেছি সহস্রবার
ছানি নয় এটা ছিলো চোখের ভাষার ব্যর্থতা!

গেয়েছি রাতের গান, যে গানে সবাই ছিলো, একজন বাদে!
যার হাতে প্রান পেয়ে লড়ে গেছি অন্ধকার খাদে!
ছায়ার ভেতরে যাকে অনায়াসে কাছে পেয়ে তুচ্ছ করে গেছি
আজকে তাকেই খুঁজি সকল নিখোঁজ সংবাদে…

এঁকেছি যত্ন করে, চাহিদাপত্র মেনে,ভোর আর মায়াবী সকাল
নিপুণ হিংস্রতায় সময় বুনেছে সেই দুপুরের জাল
যে দুপুরে কবিতার… সঙ্গে দেখা হয়েছিলো… বহুকাল আগে
সে দুপুরে, আজ আমার, বর্ষাকাল উথাল-পাথাল…

আরও পড়ুন…

শ্রীজাত’র ১২০ কাপলেট

সাদাত হোসাইনের ১০০ প্রিয় কাপলেট

শেযার করুন...




© All rights reserved
Design & Developed BY ThemesBazar.Com